রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ বিশেষ সংবাদ

আদিতমারীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান দখলের অভিযোগ


প্রকাশ :

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইবনে হাবীব কাসুরী চঞ্চলের বিরুদ্ধে ফুটপাতের দোকান ভাঙচুর ও ট্রাকে মাটি ফেলে দোকান দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাজেরা বেগম (৫৩) আদিতমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ফুটপাতের অন্যান্য দোকানদারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাজেরা বেগমের স্বামী মোফাজ্জল হোসেন স্থানীয় ঈদগাহ মাঠ কমিটির অনুমতি নিয়ে ১০ বছরের জন্য একটি দোকান ঘর ভাড়া নেন এবং সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি বিএনপি নেতা ইবনে হাবীব কাসুরী চঞ্চল দোকানটি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

গত ১৫ মার্চ দুপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা দোকানের সামনে টিনের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হাজেরা বেগম বাধা দিলে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ইবনে হাবীব কাসুরী চঞ্চল তাকে মারধরের জন্য তেড়ে আসেন। তবে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

হাজেরা বেগম অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা শুধু ভয়ভীতি প্রদর্শনই করেননি, বরং আরও লোকজন নিয়ে দোকান দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের হুমকি দিয়েছেন।

এদিকে শনিবার বিকেলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ওই ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন আরও ৭-৮টি দোকানের চাল ভাঙচুর করেন। যুগ ধরে অনেকেই সেখানে ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দখল প্রচেষ্টায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ষাটোর্ধ বৃদ্ধ জগদীষ চন্দ্র বলেন, "দীর্ঘ ১৮-২০ বছর ধরে এখানে মুচির কাজ করে আসছি। হঠাৎ দোকানের চালা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখন কী করবো, কীভাবে খাবো এই বয়সে—বুঝতে পারছি না।"

অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসা চালিয়ে আসছি। হঠাৎ ক্ষমতা দেখিয়ে দোকানের চালা ভেঙে আমাদের জিনিসপত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা কীভাবে সংসার চালাবো?"

অভিযুক্ত বিএনপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আকবর বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন, যাতে অবৈধ দখল ও সহিংসতা বন্ধ হয় এবং ব্যবসায়ীরা নিরাপদে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারেন।