মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

জাপানে জামাইকে দত্তক নেয় পরিবার, সুযোগ পেতে পারেন বাংলাদেশিরাও


প্রকাশ : (১৫ ঘন্টা আগে)
জাপানে জামাইকে দত্তক নেয় পরিবার, সুযোগ পেতে পারেন বাংলাদেশিরাও

বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শুধু জামাই হিসেবে নয়, পরিবারের সদস্য ও ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি হিসেবেও পরিচিত হওয়ার ঘটনা জাপানে দীর্ঘদিনের। কোনো কোনো পরিবার মেয়ের স্বামীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দত্তক নিয়ে পরিবারের পদবি ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা ধরে রাখে। জাপানে প্রচলিত এই ব্যবস্থাকে বলা হয় ‘মুকোয়োশি’।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে দত্তক নেওয়ার ধারণাটি সাধারণত শিশুকে কেন্দ্র করে পরিচিত। জাপানে অবশ্য প্রাপ্তবয়স্ক কাউকেও দত্তক নেওয়ার আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার দেখা যায় পারিবারিক ব্যবসা ও উত্তরাধিকার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে।

তবে ‘মুকোয়োশি’কে শুধু ঘরজামাই হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। এটি একটি আনুষ্ঠানিক দত্তক ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়, যার আইনি প্রভাব রয়েছে।

কেন জামাইকে দত্তক নেয় পরিবার?

জাপানে বহু পারিবারিক ব্যবসা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই পরিবারের নামে পরিচালিত হয়ে আসছে। কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং পারিবারিক পদবি ধরে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের স্বামীকে দত্তক নেওয়া হতে পারে। এতে তিনি শুধু মেয়ের স্বামী থাকেন না, আইনি ও পারিবারিক কাঠামোর মধ্যে পরিবারের সন্তান হিসেবেও যুক্ত হতে পারেন।

এর ফলে পরিবারের পদবি, ব্যবসা এবং উত্তরাধিকার পরিকল্পনা একই ধারায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে প্রতিটি ‘মুকোয়োশি’ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য এক নয়। কোথাও এটি পারিবারিক ব্যবসার উত্তরসূরি নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত, আবার কোথাও পারিবারিক সম্পর্ক ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার পরিকল্পনাই মূল বিষয় হতে পারে।

শুধু ব্যবসা নয়, পারিবারিক ধারাবাহিকতাও

‘মুকোয়োশি’ ধারণার সঙ্গে জাপানের পুরোনো পারিবারিক কাঠামোর সম্পর্ক রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে পরিবারের নাম ও সম্পত্তির ধারাবাহিকতা ধরে রাখাকে সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাপানের বর্তমান সমাজেও এই ধারণার কিছু প্রভাব রয়েছে। দেশটির সরকারি একটি প্রকাশনায় ‘মুকো’ বা জামাইকে পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে নেওয়ার সামাজিক ধারণার উল্লেখ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে সেখানে বলা হয়েছে, আধুনিক জাপানে ‘মুকো’ ও ‘ইয়োমে’ ধরনের পুরোনো পারিবারিক পরিচয়ের ধারণা এখনো কিছু এলাকায় টিকে থাকলেও এগুলোকে নিয়ে সামাজিক ও মানবাধিকারগত বিতর্কও রয়েছে।

অর্থাৎ, এটি জাপানের সর্বত্র প্রচলিত কোনো বাধ্যতামূলক পারিবারিক নিয়ম নয়। বরং নির্দিষ্ট পরিবার ও পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত একটি ঐতিহাসিক ও আইনি ব্যবস্থা।

বড় ব্যবসার ইতিহাসেও দেখা গেছে

জাপানের কিছু বড় পারিবারিক ব্যবসার ইতিহাসে দত্তক উত্তরসূরির উদাহরণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে পারিবারিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য রক্তের সম্পর্কের বাইরে থেকেও উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার নজির রয়েছে।

এ কারণে ‘মুকোয়োশি’কে জাপানের ব্যবসায়িক সংস্কৃতির একটি আলোচিত দিক হিসেবেও দেখা হয়।

তবে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির বর্তমান মালিকানা বা নেতৃত্বকে শুধু ‘মুকোয়োশি’ প্রথার ফল হিসেবে উপস্থাপন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

দত্তক নিলেই কি সম্পত্তির মালিক হওয়া যায়?

দত্তক গ্রহণের সঙ্গে উত্তরাধিকারের বিষয়টি জড়িত হতে পারে, কিন্তু এটিকে এমনভাবে বলা ঠিক নয় যে দত্তক হলেই সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সব সম্পত্তি হাতে চলে আসে।

উত্তরাধিকার, সম্পত্তির মালিকানা, ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং পারিবারিক দায়িত্ব পৃথক আইনি বিষয়। কোনো ব্যক্তি দত্তক সন্তান হিসেবে কী অধিকার পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট আইন, পারিবারিক নথি এবং সম্পত্তির কাঠামোর ওপর নির্ভর করতে পারে।

তাই ‘জামাইকে দত্তক নিলেই পুরো ব্যবসা বা সম্পত্তি তার হয়ে যায়’ এমন ধারণা সঠিক নয়।

বাংলাদেশিরাও কি এই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন?

এখানে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।

জাপানে বিদেশি নাগরিকের পারিবারিক সম্পর্ক ও দত্তক গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন ও ব্যক্তির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো বাংলাদেশি নাগরিক জাপানি পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করলেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘মুকোয়োশি’ হতে পারবেন, এমন নয়।

নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকের দত্তক গ্রহণের আইনি সুযোগ থাকতে পারে। তবে সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়স, পারিবারিক অবস্থা, জাপানি আইনের শর্ত এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতার ওপর নির্ভর করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, **দত্তক গ্রহণ আর জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা এক বিষয় নয়।**

জাপানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আলাদা ‘ন্যাচারালাইজেশন’ বা নাগরিকত্ব গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সাধারণভাবে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বসবাস, বয়স, আচরণ, জীবিকা ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়। শুধু কোনো জাপানি পরিবারের সদস্য বা দত্তক সন্তান হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানের নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না।

একইভাবে বিদেশি আত্মীয়কে জাপানে আনার বিষয়েও আলাদা অভিবাসন ও বসবাসের প্রক্রিয়া রয়েছে।

জন্মহার কমার সঙ্গে নতুন করে আলোচনায়

জাপানে জন্মহার কমে যাওয়া এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণে পারিবারিক ব্যবসার উত্তরসূরি পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু পরিবার ব্যবসার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য পরিবারের বাইরে থেকেও উপযুক্ত ব্যক্তিকে উত্তরসূরি করার পথ বেছে নেয়।

এখানে ‘মুকোয়োশি’ একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আধুনিক জাপানে শুধু পুরুষ উত্তরসূরি কেন প্রয়োজন, নারীরা কেন পারিবারিক ব্যবসার নেতৃত্ব দিতে পারবেন না, এসব প্রশ্নও এখন আলোচনায় রয়েছে।

জাপানের সরকারি একটি প্রকাশনাতেও পারিবারিক উত্তরাধিকার ও ‘মুকো’ পরিচয় নিয়ে আধুনিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে।

 জামাই থেকে পরিবারের সদস্য

সব মিলিয়ে ‘মুকোয়োশি’কে শুধু ঘরজামাইয়ের গল্প হিসেবে দেখলে বিষয়টির আইনি ও সামাজিক দিকটি বাদ পড়ে যায়। এটি মূলত এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মেয়ের স্বামীকে পরিবারের সদস্য ও উত্তরসূরি হিসেবে গ্রহণ করা হতে পারে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসা, পদবি ও উত্তরাধিকারের বিষয় যুক্ত থাকে। তবে দত্তক গ্রহণের ফল কী হবে, তা প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে।

আর বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সতর্কভাবে দেখা দরকার। **জাপানি পরিবারে বিয়ে বা দত্তক গ্রহণের সম্ভাবনা থাকলেও এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব, স্থায়ী বসবাস বা সম্পদের অধিকার পাওয়া যায় না।** এসবের জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া ও শর্ত রয়েছে।

জাপানের ‘মুকোয়োশি’ তাই শুধু জামাইকে ছেলে বানানোর গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, পদবি, ব্যবসা, উত্তরাধিকার এবং আধুনিক জাপানি সমাজে বদলে যাওয়া পারিবারিক কাঠামোর একটি দীর্ঘ ইতিহাস
# জাপানে জামাইকে দত্তক নেয় পরিবার, সুযোগ পেতে পারেন বাংলাদেশিরাও

বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শুধু জামাই হিসেবে নয়, পরিবারের সদস্য ও ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি হিসেবেও পরিচিত হওয়ার ঘটনা জাপানে দীর্ঘদিনের। কোনো কোনো পরিবার মেয়ের স্বামীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দত্তক নিয়ে পরিবারের পদবি ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা ধরে রাখে। জাপানে প্রচলিত এই ব্যবস্থাকে বলা হয় ‘মুকোয়োশি’।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে দত্তক নেওয়ার ধারণাটি সাধারণত শিশুকে কেন্দ্র করে পরিচিত। জাপানে অবশ্য প্রাপ্তবয়স্ক কাউকেও দত্তক নেওয়ার আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার দেখা যায় পারিবারিক ব্যবসা ও উত্তরাধিকার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে।

তবে ‘মুকোয়োশি’কে শুধু ঘরজামাই হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। এটি একটি আনুষ্ঠানিক দত্তক ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়, যার আইনি প্রভাব রয়েছে।

কেন জামাইকে দত্তক নেয় পরিবার?

জাপানে বহু পারিবারিক ব্যবসা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই পরিবারের নামে পরিচালিত হয়ে আসছে। কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং পারিবারিক পদবি ধরে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের স্বামীকে দত্তক নেওয়া হতে পারে। এতে তিনি শুধু মেয়ের স্বামী থাকেন না, আইনি ও পারিবারিক কাঠামোর মধ্যে পরিবারের সন্তান হিসেবেও যুক্ত হতে পারেন।

এর ফলে পরিবারের পদবি, ব্যবসা এবং উত্তরাধিকার পরিকল্পনা একই ধারায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে প্রতিটি ‘মুকোয়োশি’ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য এক নয়। কোথাও এটি পারিবারিক ব্যবসার উত্তরসূরি নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত, আবার কোথাও পারিবারিক সম্পর্ক ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার পরিকল্পনাই মূল বিষয় হতে পারে।

শুধু ব্যবসা নয়, পারিবারিক ধারাবাহিকতাও

‘মুকোয়োশি’ ধারণার সঙ্গে জাপানের পুরোনো পারিবারিক কাঠামোর সম্পর্ক রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে পরিবারের নাম ও সম্পত্তির ধারাবাহিকতা ধরে রাখাকে সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাপানের বর্তমান সমাজেও এই ধারণার কিছু প্রভাব রয়েছে। দেশটির সরকারি একটি প্রকাশনায় ‘মুকো’ বা জামাইকে পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে নেওয়ার সামাজিক ধারণার উল্লেখ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে সেখানে বলা হয়েছে, আধুনিক জাপানে ‘মুকো’ ও ‘ইয়োমে’ ধরনের পুরোনো পারিবারিক পরিচয়ের ধারণা এখনো কিছু এলাকায় টিকে থাকলেও এগুলোকে নিয়ে সামাজিক ও মানবাধিকারগত বিতর্কও রয়েছে।

অর্থাৎ, এটি জাপানের সর্বত্র প্রচলিত কোনো বাধ্যতামূলক পারিবারিক নিয়ম নয়। বরং নির্দিষ্ট পরিবার ও পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত একটি ঐতিহাসিক ও আইনি ব্যবস্থা।

বড় ব্যবসার ইতিহাসেও দেখা গেছে

জাপানের কিছু বড় পারিবারিক ব্যবসার ইতিহাসে দত্তক উত্তরসূরির উদাহরণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে পারিবারিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য রক্তের সম্পর্কের বাইরে থেকেও উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার নজির রয়েছে।

এ কারণে ‘মুকোয়োশি’কে জাপানের ব্যবসায়িক সংস্কৃতির একটি আলোচিত দিক হিসেবেও দেখা হয়।

তবে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির বর্তমান মালিকানা বা নেতৃত্বকে শুধু ‘মুকোয়োশি’ প্রথার ফল হিসেবে উপস্থাপন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

দত্তক নিলেই কি সম্পত্তির মালিক হওয়া যায়?

দত্তক গ্রহণের সঙ্গে উত্তরাধিকারের বিষয়টি জড়িত হতে পারে, কিন্তু এটিকে এমনভাবে বলা ঠিক নয় যে দত্তক হলেই সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সব সম্পত্তি হাতে চলে আসে।

উত্তরাধিকার, সম্পত্তির মালিকানা, ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং পারিবারিক দায়িত্ব পৃথক আইনি বিষয়। কোনো ব্যক্তি দত্তক সন্তান হিসেবে কী অধিকার পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট আইন, পারিবারিক নথি এবং সম্পত্তির কাঠামোর ওপর নির্ভর করতে পারে।

তাই ‘জামাইকে দত্তক নিলেই পুরো ব্যবসা বা সম্পত্তি তার হয়ে যায়’ এমন ধারণা সঠিক নয়।

বাংলাদেশিরাও কি এই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন?

এখানে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।

জাপানে বিদেশি নাগরিকের পারিবারিক সম্পর্ক ও দত্তক গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন ও ব্যক্তির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো বাংলাদেশি নাগরিক জাপানি পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করলেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘মুকোয়োশি’ হতে পারবেন, এমন নয়।

নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকের দত্তক গ্রহণের আইনি সুযোগ থাকতে পারে। তবে সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়স, পারিবারিক অবস্থা, জাপানি আইনের শর্ত এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতার ওপর নির্ভর করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, **দত্তক গ্রহণ আর জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা এক বিষয় নয়।**

জাপানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আলাদা ‘ন্যাচারালাইজেশন’ বা নাগরিকত্ব গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সাধারণভাবে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বসবাস, বয়স, আচরণ, জীবিকা ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়। শুধু কোনো জাপানি পরিবারের সদস্য বা দত্তক সন্তান হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানের নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না।

একইভাবে বিদেশি আত্মীয়কে জাপানে আনার বিষয়েও আলাদা অভিবাসন ও বসবাসের প্রক্রিয়া রয়েছে।

জন্মহার কমার সঙ্গে নতুন করে আলোচনায়

জাপানে জন্মহার কমে যাওয়া এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণে পারিবারিক ব্যবসার উত্তরসূরি পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু পরিবার ব্যবসার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য পরিবারের বাইরে থেকেও উপযুক্ত ব্যক্তিকে উত্তরসূরি করার পথ বেছে নেয়।

এখানে ‘মুকোয়োশি’ একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আধুনিক জাপানে শুধু পুরুষ উত্তরসূরি কেন প্রয়োজন, নারীরা কেন পারিবারিক ব্যবসার নেতৃত্ব দিতে পারবেন না, এসব প্রশ্নও এখন আলোচনায় রয়েছে।

জাপানের সরকারি একটি প্রকাশনাতেও পারিবারিক উত্তরাধিকার ও ‘মুকো’ পরিচয় নিয়ে আধুনিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে।

জামাই থেকে পরিবারের সদস্য

সব মিলিয়ে ‘মুকোয়োশি’কে শুধু ঘরজামাইয়ের গল্প হিসেবে দেখলে বিষয়টির আইনি ও সামাজিক দিকটি বাদ পড়ে যায়। এটি মূলত এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মেয়ের স্বামীকে পরিবারের সদস্য ও উত্তরসূরি হিসেবে গ্রহণ করা হতে পারে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসা, পদবি ও উত্তরাধিকারের বিষয় যুক্ত থাকে। তবে দত্তক গ্রহণের ফল কী হবে, তা প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে।

আর বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সতর্কভাবে দেখা দরকার। **জাপানি পরিবারে বিয়ে বা দত্তক গ্রহণের সম্ভাবনা থাকলেও এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব, স্থায়ী বসবাস বা সম্পদের অধিকার পাওয়া যায় না।** এসবের জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া ও শর্ত রয়েছে।

জাপানের ‘মুকোয়োশি’ তাই শুধু জামাইকে ছেলে বানানোর গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, পদবি, ব্যবসা, উত্তরাধিকার এবং আধুনিক জাপানি সমাজে বদলে যাওয়া পারিবারিক কাঠামোর একটি দীর্ঘ ইতিহাস

বিজ্ঞাপন