শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

হরমুজে হামলার ঝুঁকি বাড়ায় ফের ১০২ ডলারের ওপরে ব্রেন্ট তেল


প্রকাশ : (১৩ ঘন্টা আগে)
হরমুজে হামলার ঝুঁকি বাড়ায় ফের ১০২ ডলারের ওপরে ব্রেন্ট তেল

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।

অয়েল প্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ০৬ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৩০ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ৫১ ডলার বেড়ে ৮৯ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়ায়।

এর আগে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ কৌশলগত মজুত থেকে দ্রুত তেল ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায়। ঘোষণার পর এক পর্যায়ে বাজারে তেলের দাম কমলেও হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে হামলার ঘটনা সরবরাহ ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল রপ্তানির পাশাপাশি জাহাজ, পণ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।

সর্বশেষ হামলায় কাতারের উত্তরে একটি তেলবাহী জাহাজে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওই ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এএনজেড ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পণ্যবাজার কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইনস বলেন, অতীতে পারস্য উপসাগরে এ ধরনের হামলার পর তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার নজির রয়েছে। তবে এবার বিকল্প পথে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাঠানোর সুযোগ সীমিত থাকায় উৎপাদক দেশগুলো ঝুঁকি নিয়েই রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

আইইএর কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তও বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি আনতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই তেল ছাড়ার পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর সময় ঘোষিত ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনারই অংশ হতে পারে। ফলে বাজারে এটি অতিরিক্ত নতুন সরবরাহ হিসেবে বড় প্রভাব ফেলছে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়াও বাজারে দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

একই সময়ে ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত ৪২ হাজার ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। বছরের এই সময়ে গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় এই মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ফলে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাঝুঁকি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কমে যাওয়া তেল মজুত মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

বিজ্ঞাপন