মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

কঙ্গো-উগান্ডায় নতুন ইবোলা আতঙ্ক, জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি ডব্লিউএইচওর


প্রকাশ :

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) ও উগান্ডায় আবারও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

রোববার (১৭ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও জানায়, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ইতোমধ্যে অন্তত ২৪৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং সন্দেহভাজনভাবে মারা গেছেন প্রায় ৮০ জন। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সংক্রমণ ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে উগান্ডায় পৌঁছেছে। রাজধানী কাম্পালায় কঙ্গোফেরত দুই ব্যক্তির শরীরে পরীক্ষায় ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। একইভাবে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতেও ইতুরি থেকে ফেরা এক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়ুসাস আঞ্চলিক জরুরি সাড়াদান কার্যক্রম জোরদারে দ্রুত বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।

কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা জানান, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার বিরল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘বুন্দিবুগিও’ ভ্যারিয়েন্ট। এই ধরনটির বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে শনাক্ত রোগী ছিলেন ইতুরির বুনিয়া হাসপাতালের এক নার্স, যিনি গত ২৪ এপ্রিল ইবোলার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। পরে তার নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসটি নিশ্চিত হয়।

আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, ইতুরির ঘনবসতিপূর্ণ খনি অঞ্চল মংবওয়ালু থেকে সংক্রমণের সূত্রপাত হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের কারণে দ্রুত তিনটি স্বাস্থ্য জোনে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে অঞ্চলটিতে আইএস-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা চলমান থাকায় নজরদারি ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আফ্রিকা সিডিসি।

ডব্লিউএইচও আক্রান্তদের দ্রুত আইসোলেশনে নেওয়া এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অন্তত ২১ দিন ভ্রমণ থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। তবে আতঙ্কে সীমান্ত বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের মতে, সীমান্ত বন্ধ করে দিলে অবৈধ পথে যাতায়াত বেড়ে সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

১৯৭৬ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর এটি কঙ্গোতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঙ্গোর গভীর বনাঞ্চলই এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক উৎস। রক্ত, বমি ও অন্যান্য শারীরিক তরলের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।