বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছালে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন Larry Fink, বিশ্বের শীর্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান BlackRock-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
বুধবার (২৫ মার্চ) BBC-এর এক প্রতিবেদনে তার এই মন্তব্য তুলে ধরা হয়।
ফিংক বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে Iran-কে ঘিরে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে স্থির থাকতে পারে। এতে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে উৎপাদন খরচ বাড়বে, অন্যদিকে ভোক্তা ব্যয় কমে যাবে—এই দ্বিমুখী চাপে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়তে পারে।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে এখনো কোনো বুদ্বুদ তৈরি হয়নি। তবে এই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে শ্রমবাজারে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসছে। তার মতে, শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতা বাড়ানো জরুরি, যা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফিংকের বিশ্লেষণে উঠে আসে, জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তর—এই দুই প্রবণতাই বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণ করছে।
তিনি বলেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পরিণতি এখনো অনিশ্চিত। তবে দুটি সম্ভাব্য চিত্র সামনে রয়েছে। একদিকে, যদি সংকটের সমাধান হয় এবং ইরান আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসে, তাহলে তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থার চেয়েও কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে, এমনকি ১৫০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে—যা বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর মন্দা ডেকে আনতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বাস্তববাদী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ফিংক বলেন, সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তা না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানুষের জীবনমান—উভয়ই চাপে পড়বে।
উল্লেখ্য, BlackRock প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা করে এবং বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগে অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ল্যারি ফিংক বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণের জন্য পরিচিত।