রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

প্রতি শনিবার রাজপথে থাকব’, প্যারিসে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অনড় তরুণেরা


প্রকাশ : (৩ ঘন্টা আগে)
প্রতি শনিবার রাজপথে থাকব’, প্যারিসে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অনড় তরুণেরা

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, তরুণদের উদ্বেগ নিরসনে সরকারের ব্যর্থতা এবং প্রতিবাদের অধিকার খর্বের অভিযোগে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শনিবারের বড় বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের প্রায় দুই ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। তবে সংঘর্ষ ও পুলিশের পদক্ষেপে হতাশ হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তরুণ বিক্ষোভকারীরা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার প্যারিসের রাজপথে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও আয়োজক শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটির দেওয়া হিসাবেও পার্থক্য রয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার, আর আয়োজকদের দাবি, এ সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার।

বিক্ষোভের শুরুতে পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। প্যারিসের পূর্বাঞ্চলের সড়ক ধরে মিছিল এগিয়ে যাওয়ার সময় লাউডস্পিকারে ফরাসি পপসংগীত বাজছিল। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন। আবাসিক ভবনের জানালা থেকেও অনেকে তাঁদের প্রতি সমর্থন জানান। কোথাও কোথাও রাস্তায় নাচের ছোট ছোট আসর বসে।

তবে মিছিলের শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সেখানে অপেক্ষায় থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি ছুড়লে পুলিশ পাল্টা ধাওয়া দেয়। এ সময় কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এএফপির এক সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পুলিশের বারবার বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হওয়ার দৃশ্য দেখেন। আহতদের মধ্যে ডেভিড নামের এক বিক্ষোভকারীও ছিলেন। তিনি জানান, এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর দিকে লাঠি ছুড়ে মারলে তিনি আহত হন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের পেছনে সরে যেতে বলার পাশাপাশি অনেককে ফেলে দিয়ে মারধর করে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাইক বলেন, তরুণদের উদ্বেগের বিষয়টি ফ্রান্সের বয়স্ক জনগোষ্ঠী উপেক্ষা করছে বলে তাঁদের মনে হয়। পুলিশের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কিশোর-কিশোরীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করা কতটা যৌক্তিক।

২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জেসিকাও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বিক্ষোভে এত সহিংসতার প্রয়োজন ছিল না। এতে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার খর্ব হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

এক সপ্তাহ আগে সংঘটিত দাঙ্গার পর নতুন করে বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ প্যারিসের রাস্তাঘাট খালি করতে শুরু করে এবং বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আন্দোলনটির সূচনা হয়। প্রথমে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন দেশজুড়ে বিস্তৃত হয়। এতে তরুণদের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন যুক্ত হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজনের হাতে সরকারের সমালোচনা করে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার অভিযোগ তুলে লেখা একটি প্ল্যাকার্ডও ছিল, যা পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সংঘর্ষের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জেসিকা ও তাঁর বন্ধুরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার কথা জানিয়ে জেসিকা বলেন, একটি জাতি হিসেবে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে লড়ছেন।

তাঁর বন্ধু ২৪ বছর বয়সী ব্রায়ান বলেন, ‘প্রতি শনিবার আসতে হলে আমরা প্রতি শনিবারই এখানে থাকব।’

তরুণদের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, পুলিশের পদক্ষেপ ও সংঘর্ষের মধ্যেও ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নাগরিক অধিকার প্রশ্নে তাঁদের প্রতিবাদ থামছে না।

বিজ্ঞাপন