রংপুর বিভাগের দিনাজপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম হারুন (৪৮), তিনি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০৭ জন রোগী।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ অক্টোবর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপতোলে ভর্তি হয়েছি হারুন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তার মৃত্যু হয়।
এদিকে নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ঢাকায় রিকশা চালাতেন হারুন। সেখানে থাকা অবস্থায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরে গ্রামের বাড়িতে আসলে তার প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু জ্বরে গুরুতর অসুস্থ হলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। হারুন প্রায় ১৫ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন বলেও জানায় তার পরিবার।
এ নিয়ে রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয়জনে। এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলায় পাঁচজন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে দুইজন এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইজন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য পরিচালকের মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই সময়েবিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে আরও ৬৪ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রংপুর জেলায় ৩০ জন, দিনাজপুরে ৩, লালমনিরহাটে ৭, গাইবান্ধায় ১৪ ঠাকুরগাঁও জেলায় ১০ জন রোগী রয়েছে।
মিডিয়া সেলের তথ্য মতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ বুধবার ৭ অক্টোবর সকাল আটটা পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৯৩৬ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন দুই হাজার ৭২০ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০৭ জন রোগী।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল হাসপাতাল বা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, বরং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকাসহ প্রতিটি বাড়িতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে সামান্য জ্বর দেখা দিলেই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।