রংপুরে চার খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের শরিলে ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রংপুর মেডিকেল কলেজে অভিযুক্তদের ইউরিন পরীক্ষায় এ ফলাফল পায় চিকিৎসকরা। মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, যদি মাদকের অস্তিত্ব ওদের (দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ) শরীরে পাওয়া না যায়, তখন তো বোঝা গেল যে, সুস্থ মস্তিষ্কে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। এখন আমি আর কী বলব। আমি তো প্রথম দিন বলছিলাম যে দুজনের পক্ষে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত করা সম্ভব নয়। কিন্তু কেউ কেউ বলে যে, দুজন কেন, একজনও করতে পারে।তদন্তের আরো গভীরে যাওয়া দরকার। যদি হালকা হালকা উপরে উপরে শেষ করে দেওয়া যায় তাহলে তো কিছু হবে না। আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হোক। অপরদিকে, রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের মামলায় অভিযুক্তদের জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। সোমবার (৩১ আগস্ট) রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিন্নাত আলী কারাগারে থাকা হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত আসামী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, রবিবার আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের ইউরিন নেয়ার অনুমতি দেয় আদালত। ডিবির একটি টিম গিয়ে কারাগার থেকে সেটি সংগ্রহ করে। এছাড়া আমাদের আবেদনে রক্ত, চুল ও অন্যান্য কিছু স্যাম্পল ছিল। কিন্তু সেইগুলি রংপুর মেডিকেল কলেজে পরীক্ষার সুযোগ নেই। আমরা ডোপ টেস্টের ফলাফলে দেখতে পেয়েছি তাদের শরীরে মাদকের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।আমি বিশেষজ্ঞ নই, তবে মাদক গ্রহণের ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে ডোপ টেস্ট করলে ফলাফল পজেটিভ আসে। যেহেতু অভিযুক্তরা জেল হাজতে ৮ দিন ধরে আসে এটি পজেটিভ আসলে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত হতো।
অভিযুক্তদের জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি :
রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের মামলায় অভিযুক্তদের জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। সোমবার (৩১ আগস্ট) রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিন্নাত আলী কারাগারে থাকা হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত আসামী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামী পক্ষের আইনজীবিদের উপস্থিতিতে শুনানী শেষে দুই অভিযুক্তের প্রত্যেককে আগামী তিন দিনের মধ্যে যে কোন দুই দিন তিন ঘন্টা করে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলাম। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার মমিনুল ইসলাম।
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ হত্যায় বাদী চান আরও গভীর তদন্ত :
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যা মামলায় গভীর তদন্ত দাবি করেছে পরিবারের স্বজনরা।মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী তার মেয়ে ও মেয়ের জামাই নগরীর সেন্ট্রাল রোডে ডিবি কার্যালয়ে ডিবি পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
সোমবার বিকালে এই মামলার বাদী গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী, তার মেয়ে ও মেয়ের জামাই নগরীর সেন্ট্রাল রোডে ডিবি কার্যালয়ে ডিবি পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ তাদের ডেকেছিল এজন্য তারা এসেছেন। ঘণ্টাখানেক তারা ডিবি কার্যালয়ে ছিলেন,পুলিশকে গভীরভাবে মামলাটি তদন্ত করে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার কথা বলেছেন। পুলিশ তাদেরকে সেই আশ্বাস দিয়েছেন।
মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন,উনারা (পুলিশ) আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন আমরা ন্যায়বিচার পাব। এক প্রশ্নের জবাবে মামলার বাদী বলেন, আমি তো প্রথম দিন বলছিলাম যে দুজনের পক্ষে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত করা সম্ভব নয়। কিন্তু কেউ কেউ বলে যে, দুজন কেন, একজনও করতে পারে।তদন্তের আরো গভীরে যাওয়া দরকার। যদি হালকা হালকা উপরে উপরে শেষ করে দেওয়া যায় তাহলে তো কিছু হবে না। আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হোক।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত করছে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়। তাদের সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী ছিলেন সোমবার দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা কারাগার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি,মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, যদি মাদকের অস্তিত্ব ওদের (দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ) শরীরে পাওয়া না যায়, তখন তো বোঝা গেল যে, সুস্থ মস্তিষ্কে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে।এখন আমি আর কী বলব। আমি তো এখান থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে থাকি। আমি তো আশপাশের (নগরীর মাছুয়াপাড়া) লোক কাউকে চিনি না। কারও নামও বলতে পারব না কারও ওপর সন্দেহও করতে পারব না।এখন যাতে আপনাদের মাধ্যমে এর সঠিক আসামি খুঁজে বের করা যায় এবং সঠিক বিচার হয় সেটাই আমার একমাত্র কাম্য।এ সময় বাদীর মেয়ে স্বপ্না চক্রবর্তী ও তার স্বামী বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
বাদীর জামাতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন,যত দিন যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসছে। আমরা শুরু থেকেই বলছি। দুজন আসামি আছেন। একজনও অনেক কিছু করতে পারেন। তবে এর সঙ্গে আরও কোনো মাথা জড়িত কিনা সেটা গভীরভাবে তদন্ত করার জন্য। পুলিশ আমাদের সেই আশ্বাস দিয়েছে ন্যায়বিচারের।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের বন্ধু সীমান্ত দাস ও দখিগঞ্জ শশ্মানের পাহারাদার বিদ্যুৎ মোহন্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দিয়েছে।