বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনিস্টিউটের অধ্যক্ষের অপসারনের দাবীতে শিক্ষার্থীদের মানবন্ধন


প্রকাশ :
লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনিস্টিউটের অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ রেজাউল করিমের অপসারনের দাবীতে শিক্ষার্থীদের মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

অধ্যক্ষ যোগদানের পর থেকে তিনি নানাবিধ অনিয়ম করে আসছে । এমন অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে অসদাচরণ, দুর্ব্যবহার, চারিত্রিক স্খলন সহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ফুঁষে উঠেছে।  

শিক্ষার্থীদের অভিযোগে জানা গেছে, অধ্যক্ষ তার খেয়াল খুশি মত প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এমনকি সভা-অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের সাথে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বাজে আচরণ করেন।

সরকারি ছুটির দিন সপ্তাহে দুইদিন আবাসিক হোস্টেল 'রন্ধনশালা' বন্ধ রাখে। ফলে,আবাসিকে থাকা শিক্ষার্থীদের খাওয়া দাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোঁহাতে হয়।

লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনিস্টিউটের অবস্থান কালীগঞ্জ উপজেলায় হওয়ায় এখানে পর্যাপ্ত হোটেল নাই। সঙ্গত কারনে বাইরের হোটেলে শিক্ষার্থীদের খাওয়া দাওয়া সম্ভব নয়! সপ্তাহের ৭ দিনই হোস্টেল চালু রাখার নিয়ম থাকলেও অধ্যক্ষ তার খেয়াল খুশি মত হোস্টেল বন্ধ রাখেন।

আভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ কর্মস্থলে থাকেননা। প্রতি বৃহস্পতিবার নিজ বাড়ি বগুড়ায় চলে যান, ফিরেন রোববার। ফলে,প্রশাসনিক জটিলতা লেগেই থাকে।

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত নানাবিধ অভিযোগ জানিয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একাধিক অভিযোগ করেও কোনো রকম প্রতিকার পায়নি বলে শিক্ষার্থীদের দাবী। 

দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিযোগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছে গত বুধবার। হোস্টেলে থাকা শত শত শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের অপসারণের দাবীতে তারা অধ্যক্ষের কক্ষ অবরোধ করে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি করে। এর আগে শিক্ষার্থীরা পুলিশ প্রশাসন ওসি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ করে মিছিল করে ।

সংবাদ পেয়ে নবাগত কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোঃ আবু সিদ্দিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবীসমুহ শুনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। ইউএনও জেলা প্রশাসক, সচিব পর্যায়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে অবরুদ্ধ অধ্যক্ষকে অবমুক্ত করে নিয়ে যান। দ্রুত সময়ের মধ্যে অধ্যক্ষকে অপসারণ করার আশ্বাস দিলে,আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তা' মেনে নেন এবং তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যপারে অধ্যক্ষের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করান চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।