শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

চোর সন্দেহে সালিসে মারধর: অপমানে মায়ের আত্মহত্যা


প্রকাশ :

জামালপুর সদর উপজেলায় গরু চুরির সন্দেহে এক যুবককে না পেয়ে তার বাবা-মাকে তুলে নিয়ে সালিসে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অপমান ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জোসনা বানু নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের খলিলহাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য নায়েব আলী ও তার সহযোগীরা গরু চুরির সন্দেহে সুজন মিয়াকে ধরতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার বাবা সুরুজ আলী (৫৭) এবং একই এলাকার তোতা মিয়া (৪৭) ও সোহেল রানা (৩২)-কে তুলে নিয়ে যান। পরে তাদের ইউনিয়ন পরিষদে আটক রাখা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে নায়েব আলীর এক আত্মীয়ের গোয়ালঘরে শব্দ হলে চুরির সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর সুজনকে ধরতে গেলে তিনি পালিয়ে যান। এ সময় তার মা জোসনা বানু বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। পরে সুজনের বাবা সুরুজ আলীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একই রাতে তোতা মিয়াকেও আটক করা হয়।

সকালে নায়েব আলীর বোনের বাড়িতে সালিস বসে। সেখানে সোহেল রানাকে ডেকে আনা হলে তাকে অন্যদের সঙ্গে বসতে বলা হয়। আপত্তি জানালে তিনজনকে একসঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এ সময় জোসনা বানুকেও ডেকে এনে মারধর করা হয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানান স্থানীয়রা।

পরে গ্রাম পুলিশ আটক তিনজনকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছেলেকে না পেয়ে বাবা-মাকে মারধরের ঘটনায় অপমানিত হয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য নায়েব আলী। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ সময় কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে মারধর করে, তিনি তা থামানোর চেষ্টা করেছেন।

জামালপুর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য তা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।