মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর বলেছেন, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধারাই স্বাধীনতার স্থপতি। ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধাট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলের বয়ান তৈরি করে, নিকৃষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়। ফলে বিগত ৫৪ বছরে লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি হয়েছে।
তিনি গত ৫ই ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাহী কাউন্সিল সভায় সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে একথা বলেন।
ঢাকাস্থ মুক্তিযোদ্ধা ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে, আত্মাহুতি দিয়ে ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাই মুক্তিযোদ্ধারাই দেশের শ্রেষ্ঠ ও গর্বিত সন্তান। তিনি বলেন, ইতিহাস বিকৃতির মিথ্যা বায়ান দিয়ে জাতি তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ইতিহাস প্রণয়ন করতে হবে।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরার কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ, বিগত ৫৪ বছরে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা,গনতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ব্যক্তিবর্গের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য শেষে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক কমিটির মহাসচিব সাদেক হোসেন খান মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সংশোধিত গঠনতন্ত্র উপস্থাপন করেন। সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত সংশোধিত গঠনতন্ত্র গৃহীত হয়। গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সম্পূর্ণরূপে একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর(অব:) সৈয়দ মনিবুর রহমান, কেন্দ্রিয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য সিরাজুল হক, ঢাকা মহানগর কমিটির আহবায়ক নুরুল বাসার, রাজশাহী জেলা আহবায়ক নজরুল ইসলাম খোকা, মানিকগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, ঝিনাইদহ জেলা আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ মাস্টার, খাগড়াছড়ি জেলা আহবায়ক হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরা, খুলনা জেলা আহ্বায়ক আবু জাফর , নরসিংদী জেলা আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, বরিশাল জেলা আহবায়ক মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা আহ্বায়ক শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সিলেট জেলা আহ্বায়ক কামাল পাশা, যশোর জেলা আহবায়ক আব্দুল লতিফ, হবিগঞ্জ জেলা আহবায়ক হুমায়ুন কবির, ময়মনসিংহ জেলা আহবায়ক আশরাফ উদ্দিন, লালমনিহাট জেলা আহবায়ক এস এম শফিকুল ইসলাম কানু প্রমূখ।
এতে ৬৪ টি জেলা, ৭টি মহানগর,ও দেশের সকল উপজেলা থেকে ৮ শতাধিক প্রতিনিধি যোগদান করেন।