বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) 'হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫'–এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে শীর্ষ ১০টি রোগের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন করা এবং সকল কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ রাজধানীর বিএমএ ভবনে “উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: অগ্রগতি, বাধা এবং করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এই বার্তা দেওয়া হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ২৮ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় বক্তারা জানিয়েছেন, দেশে অসংক্রামক রোগ মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী হলেও এই খাতে বাজেট বরাদ্দ অত্যন্ত কম। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারের স্বাস্থ্য খাতে মোট অর্থায়নের মধ্যে ৫ শতাংশেরও কম ব্যয় হয় অসংক্রামক রোগ সংক্রান্ত। এই সীমিত বরাদ্দ এবং এর অনিয়মিত ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
বক্তারা আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উচ্চ রক্তচাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয়ও হ্রাস পাবে। সকল সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট-এর ডা. গীতা রানী দেবী বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। ধাপে ধাপে আমরা সকল কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পারবো।”
এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেড-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রিয়াদ আরেফিন জানান, “উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। আশা করি দ্রুতই সকল ক্লিনিক ও কমপ্লেক্সে সরবরাহ নিশ্চিত হবে।”
কর্মশালায় চ্যানেল টুয়েন্টিফোর-এর হেড অব নিউজ জহিরুল আলম, জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল।