প্রায় ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ এবং মজুতের অনিয়মের অভিযোগে কুড়িগ্রাম খাদ্য বিভাগের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম জেলা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি করেন। মামলার বাদী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ, তৎকালীন সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হালিমুর রহমান এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক।
তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া নথিবহির্ভূতভাবে চাল মজুতের ঘটনায় সদর খাদ্যগুদামের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(খ) ধারায় পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক ছাড়া অন্য তিন কর্মকর্তা বদলি হয়ে বিভিন্ন জেলায় কর্মরত রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা এবং বাস্তব মজুত যাচাই করতে গিয়ে বিভিন্ন অসংগতি পায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট দল। নথিতে উল্লেখিত চালের সঙ্গে বাস্তব মজুতের ঘাটতি, সংগ্রহ করা ধানের হিসাবের অসংগতি এবং বিল পরিশোধের পরও গুদামে খাদ্যশস্য না পাওয়ার মতো ঘটনা উঠে আসে।
এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামের শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ গুদামে অভিযান চালায়। এ সময় চাল ও ধানের মজুত, সংগ্রহ এবং বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অসংগতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসব অনিয়মের ভিত্তিতে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া কুড়িগ্রাম সদরের শিশু নিকেতন স্কুলসংলগ্ন গুদামের পশ্চিম গেটের পাশে নথিবহির্ভূতভাবে ১১৯ মেট্রিক টন চাল মজুত থাকার তথ্য পায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট দল। এসব চালের আনুমানিক মূল্য ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৯ টাকা। চালগুলোর সংগ্রহ, ওজন, মজুত কিংবা পরিবহনসংক্রান্ত বৈধ নথি দেখাতে পারেননি গুদামের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত একটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে দুদক অভিযোগ করেছে, চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে মজুত ও সংগ্রহসংক্রান্ত নথিতে অসংগতি তৈরি করে বিপুল পরিমাণ সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আমলে নেওয়া হবে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী ও দুদকের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, “অভিযানের পর আমরা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলাম। সম্প্রতি প্রধান কার্যালয় থেকে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে মামলা করেছি।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক বলেন, “মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছে জানলাম। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।”