উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বাড়িয়ে ১৫১ করার পরিকল্পনা, হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ১০টি এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব উদ্যোগের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার এবার সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বক্তব্যে বিগত সরকারের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ওই সময়ে চিকিৎসা খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি এবং কেনা অনেক চিকিৎসা মেশিন ব্যবহার অনুপযোগী ছিল। বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও স্বাস্থ্যসেবায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো গেলে রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমানো সম্ভব হবে। এতে মানুষ নিজ নিজ এলাকার কাছাকাছি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা তাঁর।
এদিকে, বিশ্ব হার্ট দিবসের সেমিনারে হৃদরোগের ঝুঁকি, লক্ষণ ও প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেন, অনেকেই বুকের ব্যথাকে গ্যাসের সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু বুকের ব্যথা হৃদরোগসহ বিভিন্ন গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই বুকের ব্যথা হলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তীব্র বা নতুন ধরনের বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা ঠান্ডা ঘাম হলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পরামর্শও প্রাসঙ্গিক।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য পরিহার, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কমানো, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার ওপর গুরুত্ব দেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: এএন