শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

খনন করা খালে কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর তাগিদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী -আসাদুল হাবিব দুলু


প্রকাশ : (১ ঘন্টা আগে)
খনন করা খালে কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর তাগিদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী -আসাদুল হাবিব দুলু

সারা দেশে বিভিন্ন সময়ে খনন ও পুনঃখনন করা খালগুলোকে শুধু পানি নিষ্কাশন বা জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়াতে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। সরকারি অর্থে খনন করা এসব খালকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর কেআইবি সম্মেলন কেন্দ্রে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, কোনো এলাকায় খাল খনন করা হলে সেটিকে শুধু একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প হিসেবে দেখলে চলবে না। খালের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। খননের পর খালের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে আয়বর্ধক কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচিগুলোকে শুধু প্রচলিত সহায়তা ও ত্রাণনির্ভর না রেখে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার দিকে নিতে হবে। এতে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, একই ধরনের প্রচলিত কর্মসূচি সব জায়গায় বাস্তবায়ন না করে স্থানীয় পরিবেশ, মানুষের প্রয়োজন এবং বাজারব্যবস্থা বিবেচনায় প্রকল্পের ধরন নির্ধারণ করতে হবে।

মাশরুম চাষের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজে মাশরুম চাষের একটি উদ্যোগ পরিদর্শন করে এর সম্ভাবনা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নিয়েছেন। তুলনামূলকভাবে কম পুঁজিতে মাশরুম চাষ করা সম্ভব এবং এর বাজারও রয়েছে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া গেলে অনেক মানুষ এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আয় বাড়াতে পারেন।

তিনি বলেন, শীত মৌসুমেও মাশরুম চাষ করা সম্ভব। স্থানীয় পর্যায়ে ছোট পরিসরে এ ধরনের উদ্যোগ শুরু করে ধীরে ধীরে তা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য প্রচলিত সহায়তার পাশাপাশি আয়বর্ধক কর্মসূচি নেওয়া হলে তারা দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

মন্ত্রী জানান, নতুন এসব ধারণার কার্যকারিতা যাচাই করতে চলতি বছর প্রাথমিকভাবে ২৫টি উপজেলায় একটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার পর এর ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে। সফল হলে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও তা সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন কর্মসূচির ক্ষেত্রে শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না। কর্মসূচিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, মানুষের আয় কতটা বাড়ছে এবং তারা কতটা স্বাবলম্বী হতে পারছেন, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একটি কার্যকর মডেল তৈরি করা গেলে সেটি দেশের বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ ও দরিদ্র এলাকায় প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

দুর্যোগপ্রবণ মানুষের আবাসন ও পুনর্বাসন কর্মসূচির বিষয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, মানুষকে তাদের নিজস্ব সমাজ ও পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে কোনো আলাদা অঞ্চল বা আশ্রমধর্মী স্থানে পুনর্বাসন করার পরিবর্তে নিজ এলাকায় থেকেই স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। শুধু ঘর বা আশ্রয় দেওয়াই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে কর্মসংস্থান ও সামাজিক সংযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

প্রচলিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির পরিমাণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, একজন দরিদ্র মানুষকে ১০ কেজি চাল দেওয়ার বিষয়টি বর্তমান বাজারব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নতুন করে বিবেচনা করা দরকার। শুধু অল্প পরিমাণ খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে কীভাবে মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়, সেটি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

তিনি জানান, দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তায় চালের পরিমাণ ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২০ কেজি করার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। এ জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে কর্মসূচিটি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকারি সহায়তা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সহায়তার অর্থ পৌঁছে দেওয়া গেলে অপচয় ও অনিয়ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে।

কাজের বিনিময়ে খাদ্য এবং কাজের বিনিময়ে টাকা কর্মসূচির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে সমাজ ও মানুষের চিন্তা-চেতনা পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষের রুচি, জীবনযাত্রা ও প্রয়োজনেও পরিবর্তন এসেছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত সরকারি কর্মসূচির নাম ও কাঠামোও সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, কাবিখা ও কাবিটাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কমিটিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান এবং মহাপরিচালককে সদস্য সচিব করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের একজন প্রতিনিধি এবং পিআইওদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে রাখা হবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রকৃত সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য শুধু দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং তাদের জীবিকা পুনর্গঠনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, সচিব সাইফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন