বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে উদ্যোক্তা নির্বাচনে কোন তদবির চলবে না। অতীতে আমরা দেখেছি এক ধরনের প্রভাবশালী লোকদের এমন প্রণোদনা প্যাকেজের প্রতি আগ্রহ বেশি ছিল। এবার চুড়ান্ত নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন আমলা বা ব্যাংকার থাকবে না, একজন সফল উদ্যোক্তাই নতুন উদ্যোক্তা নির্বাচন করবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর কার্যালয় মিলনায়তনে ‘বেসরকারী খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে অংশীজনদের সাথে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, আমরা উদ্যোক্তা নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ করার চেষ্টা করছি। প্রণোদনা থেকে অর্থায়নের ক্ষেত্রে যে কোন সুপারিশ উদ্যোক্তার অযোগ্যতা বলে বিবেচিত হবে। প্রতিটি উপজেলায় এই নীতি অবলম্বন করে অর্থায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যূত্থানের পর তরুণদের অর্থনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত করার কথা চিন্তা করেছে সরকার। আমরা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রথমে সারাদেশের ৫ হাজার নতুন তরুণ উদ্যোক্তাদের ঋণ দেব। সেই ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ২০ লাখ টাকা। যাদের বয়স ২৮ এর কম, ব্যবসার ভালো আইডিয়া আছে তারা এই ঋণের আবেদন করতে পারবেন। ঋণের ২০ লাখের মধ্যে ১০ লাখ ব্যাংক ঋণ ও ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গে শিল্পের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। কৃষি ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য এই প্রণোদনা প্যাকেজে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি উৎপাদনে সর্বোচ্চ ঋণ সীমা ৩০ লাখ টাকা, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিপণন ও অবকাঠোমোতে ৪০ কোটি টাকা, কৃষি ভিত্তিক উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ৪০ কোটি টাকা ও কৃষি রপ্তানীর ক্ষেত্রে ১৫ কোটি টাকা। এছাড়া রপ্তানীমূখী হিমায়িত খাদ্য খাতে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন তপাদার, রংপুর কার্যালয়ের পরিচালক একেএম কামরুজ্জামান, রংপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি এমদাদুল হোসনে, উইমেন চেম্বারের সভাপতি শাহানাজ পারভীন শাহীন, মেট্রোপলিটন চেম্বারে পরিচালক নাজমুল আলম নাজু, নাসিক প্লান এন্ড পটের স্বত্তাধিকারী শাহিনুর ইসলাম, কৃষক মাহির ইসলামসহ রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।