জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলার মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বের বাইরে ছিলেন সায়মা ওয়াজেদ। ২০২৫ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। পরে একই বছরের জুলাইয়ে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে রাখে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নথি ও সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের চিঠির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন সায়মা।
পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও বলেন, বাংলাদেশে বেআইনিভাবে একটি জমি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল। তার দাবি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি পেয়েছিলেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত আইনের আওতায় জমিটি পাওয়ার বৈধ অধিকার তার ছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালককে দেওয়া চিঠিতে সংস্থাটির নেতৃত্বের ওপর অনাস্থার কথাও জানান সায়মা। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় বেতন না পাওয়ায় তার আর্থিক পরিস্থিতিও সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।
চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবীদের মাধ্যমে দেওয়া ব্যাখ্যায় সায়মা বলেন, ৯০১ মার্কিন ডলারের ওই বিলটি তার এক সহকারীর নিয়মিত বিল দাখিলের সময় হওয়া প্রশাসনিক ভুলের ফল। আর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক আগে থেকেই অবগত ছিলেন।
এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আগামী ১২ অক্টোবর নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন সায়মা ওয়াজেদ। বাংলাদেশ, ভারতসহ এ অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর ভোটে এই পদে নির্বাচন হয়।
জনস্বাস্থ্য নীতিনির্ধারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহামারি ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বয়, স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনায় এ পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হজ্জ ওমরাহ সেবার নামে প্রতারণা !
১৯ ঘন্টা আগে
সৌরবিদ্যুতেই চলবে সংসদ ভবন
১ দিন আগে