বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ইলেকট্রনিক বর্জ্য


প্রকাশ : (৬ ঘন্টা আগে)
দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ইলেকট্রনিক বর্জ্য

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্য। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য অকেজো হয়ে পড়ছে। এসব বর্জ্যের বড় অংশের নেই আলাদা ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা। ফলে সাধারণ ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে ই-বর্জ্যও ঠাঁই হচ্ছে ভাগাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলেকট্রনিক পণ্যে থাকা সিসা, ক্যাডমিয়াম, পারদ, দস্তা, ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক মাটি ও পানিতে মিশে পরিবেশ দূষিত করছে। এসব বিষাক্ত উপাদান নানা মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ শতাংশ হারে ই-বর্জ্য বাড়ছে। ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশে বছরে ই-বর্জ্যের পরিমাণ ৪৬ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। ২০১৮ সালের ওই প্রতিবেদনে দেশে বছরে প্রায় ৪ লাখ টন ই-বর্জ্য উৎপাদনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল। এর মাত্র ৩ শতাংশ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত বা রিসাইক্লিং করা হয়। বাকি ৯৭ শতাংশই বিভিন্নভাবে ফেলে রাখা বা ভাগাড়ে জমা হচ্ছে।

শুধু মোবাইল, কম্পিউটার ও টেলিভিশন নয়, গত এক দশকে দেশে দ্রুত বেড়েছে সোলার হোম সিস্টেম, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং ব্যাটারিচালিত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থার ব্যবহার। এসব যন্ত্রের আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে বিপুল পরিমাণ সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি ই-বর্জ্য হিসেবে জমা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্রিস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশের ক্লাইমেট সেন্টারের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে দেশে স্থাপিত সোলার পিভি সেল থেকে ভবিষ্যতে প্রায় ৩৩ হাজার ২০৫ টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে। সঠিকভাবে রিসাইক্লিং করা গেলে এসব বর্জ্য থেকে প্রায় ২৪ হাজার ৪৬৮ টন কাচ, ২ হাজার ৬৫৬ টন অ্যালুমিনিয়াম, ১ হাজার ৪০৪ টন সিলিকন এবং প্রায় ৫০ টন তামা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

এদিকে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যবহার বাড়ায় লিথিয়াম-আয়ন ও লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির বর্জ্যও দ্রুত বাড়ছে। পুরোনো ব্যাটারি অনেক ক্ষেত্রে খোলা জায়গায় ফেলে রাখা হচ্ছে কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে গলিয়ে মূল্যবান ধাতু সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি এসব কাজে যুক্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

পরিবেশভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের তথ্যমতে, দেশে উৎপন্ন ই-বর্জ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে প্রক্রিয়াজাত হয়। বিভিন্ন স্ক্র্যাপ মার্কেট ও অস্থায়ী কারখানায় খোলা জায়গায় ই-বর্জ্য পোড়ানো, অ্যাসিড ব্যবহার এবং হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে মূল্যবান ধাতু আলাদা করা হয়। এতে বিষাক্ত রাসায়নিক সরাসরি বাতাস, মাটি ও পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ই-বর্জ্য বর্তমানে আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয় না। সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গেই এটি ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কোরিয়ান একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিসোর্স রিকভারি সেন্টার তৈরির চুক্তি হয়েছে। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পে এমআরএফ প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য পৃথক করে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দ্রুত আলাদা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ক্রমবর্ধমান ইলেকট্রনিক বর্জ্য ভবিষ্যতে পরিবেশের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন