বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

লালমনিরহাটে বদলির খবরে আলোচনায় উইং কমান্ডার এস এম রাজিবুল ইসলাম : সর্বমহল আ‌বেগ আপ্লুত


প্রকাশ :

লালমনিরহাটে প্রায় ৯ মাসের কর্মজীবনেই অসাধারণ কর্মদক্ষতা, মানবিক নেতৃত্ব ও উন্নয়নমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে সবার আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন এস এম রাজিবুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী-এর লালমনিরহাটস্থ সিএণ্ডএম ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ এ ইউনিটটিতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দক্ষতা, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বগুণের স্বাক্ষর রাখেন। সম্প্রতি তাঁকে এটিআই, চট্টগ্রামে বদলি করা হলে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন।

সিএণ্ডএম ইউনিটে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ইউনিটটির সার্বিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনেন। প্রশাসনিক দক্ষতা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং আধুনিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ইউনিটের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন তিনি। দায়িত্বকে কেবল চাকরি হিসেবে নয়, বরং নিজের অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদার অংশ হিসেবেই দেখতেন এই চৌকস কর্মকর্তা।

তাঁর অধিক্ষেত্রে একটি মনোরম লেক এবং আধুনিক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত আলোচিত ও প্রশংসিত একটি উদ্যোগ। প্রকৃতিনির্ভর এ পরিকল্পনাটি  সর্বসাধারণের বিনোদন ও মানসিক প্রশান্তির জন্য ব্যবহারযোগ্য করে গড়ে তোলার চিন্তা ছিল তাঁর। একইসঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নেও তিনি প্রবল উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। উন্নয়নমুখী এসব পদক্ষেপে তাঁর দূরদর্শী চিন্তার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

তিনি তাঁর দায়িত্বকালেই সৈনিকদের এমওডিসি ট্রেনিংয়ের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে একটি দৃষ্টিনন্দন প্যারেড গ্রাউন্ড কাম ট্রেণিং গ্রাউন্ড নির্মাণ করতে সক্ষম হন। ওই প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও দক্ষ সমন্বয়ের কারণে কুচকাওয়াজটি সংশ্লিষ্ট মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হয়। ট্রেণিং গ্রাউন্ড নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর লালমনিরহাটের কর্মকর্তারাও নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, আন্তরিক সম্পর্ক ও পেশাগত শ্রদ্ধাবোধের কারণেই এমন সমন্বিত উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছিল।

অন্যদিকে, তাঁর অধিক্ষেত্রের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে তিনি কঠোর ও সাহসী ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা বিভিন্ন জমি পুনরুদ্ধারে প্রশাসনিক দৃঢ়তা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে তিনি বিশেষভাবে প্রশংসিত হন। সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং ইউনিটের স্বার্থ সংরক্ষণে তাঁর আপসহীন অবস্থান সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

জানা গে‌ছে, সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও মানবিক। একইসঙ্গে স্থানীয় সুশীল সমাজের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনেও তিনি সফলতা অর্জন করেছিলেন। লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তাঁকে অল্প সময়েই একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

স্থানীয়দের মতে, উইং কমান্ডার রাজিবুল ইসলাম ছিলেন একজন তুখোড়, ডাইনামিক, দূরদর্শী ও মেধাবী কর্মকর্তা, যিনি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষকে আপন করে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রাখতেন।

চট্টগ্রামে নতুন কর্মস্থলেও তিনি একই দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন—এমন প্রত্যাশাই করছেন লালমনিরহাটবাসী। একই সঙ্গে তাঁরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আবারও কোনো এক সময়ে এই গুণী কর্মকর্তাকে নিজেদের মাঝে ফিরে পাবেন।