দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, “আলোকিত লালমনিরহাট গড়তে হলে মাদক, জুয়া, যৌতুক, বাল্যবিবাহ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না, মানুষের মানসিকতা ও সামাজিক সচেতনতারও পরিবর্তন আনতে হবে।”
সোমবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে মিশন মোড় হয়ে সার্কিট হাউস পর্যন্ত স্থাপিত ডেকোরেটিভ স্ট্রিট লাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, “যুবসমাজকে মাদক ও জুয়ার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে না পারলে সব উন্নয়নই ব্যর্থ হয়ে যাবে। সমাজের সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একটি সুন্দর ও মানবিক লালমনিরহাট গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি জানান, “আলোকিত লালমনিরহাট” গড়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হবে। এতে ৩ হাজার ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন। ইমাম, পুরোহিত, খেলোয়াড়, শিল্পী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।
লালমনিরহাট শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “লালমনিরহাট একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় শহর। স্টেশন থেকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত সড়কটি এখন আরও দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। শহরকে আধুনিক ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের সময় লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়ন এবং লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় যাতায়াত আরও সহজ হয়।
রংপুর বিভাগের ৯ পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান। স্বাগত বক্তব্য দেন পৌরসভার প্রশাসক রাজিব আহসান।
এ সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, প্রকল্প পরিচালক নারায়ণ চন্দ্র রায়, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি লায়লা হাবিবসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট স্টেশন থেকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত ১৩ লাইটবিশিষ্ট ৫৪টি ডেকোরেটিভ স্ট্রিট লাইট এবং পৌর এলাকায় ২২ দশমিক ৬ কিলোমিটার এলাকায় আরো ৭০৯টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।