সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই : সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী


প্রকাশ :

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী কতৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমম্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র প্রতিবাদ সমাবেশে সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গ ভারতবর্ষের ইতিহাসে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছে, বর্তমানে ডিপস্টেটের পরামর্শে দুই বাংলার ঐতিহ্যকে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ-বিভাজন সৃষ্টি করে দুই বাংলাকে ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করছে।

৯ মে শনিবার বিকেলে পান্থপথ সেল সেন্টার অডিটোরিয়ামে ডা. এ এম নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাবেক মন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী, কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, প্রকৌশলী রহমতুল্লাহ, লেঃ কর্নেল (অবঃ) আবু ইউসুফ যোবায়ের উল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম শফিকুল ইসলাম, কানু গেরিলা লিডার '৭১,ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, অধ‍্যক্ষ এম শরিফুল ইসলাম, উইং কমান্ডার (অবঃ) ওয়ালিউল ইসলামসহ অনেকে।

বক্তারা ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগতভাবে একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। তাই দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হলে নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে, আবার সহযোগিতা বাড়লে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।

ভারতের সাথে উত্তেজনা বা দ্বন্দ্ব বাড়লে ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। সম্পর্ক খারাপ হলে—আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে,পণ্যের দাম বাড়তে পারে,

সীমান্ত বন্দর ও ট্রানজিটে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে,

শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহে সমস্যা হতে পারে,বিশেষ করে ওষুধের উপাদান, খাদ্যপণ্য, তুলা, যন্ত্রাংশ ইত্যাদির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সম্পর্ক খারাপ হলে, সীমান্তে সংঘর্ষ বা উত্তেজনা বাড়তে পারে

চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম বৃদ্ধি পেতে পারে, সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গঙ্গা, তিস্তা সহ বহু আন্তঃসীমান্ত নদী দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ক খারাপ হলে, পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে যেতে পারে, কৃষি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, খরা বা বন্যা ব্যবস্থাপনা কঠিন হতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীর আস্থা কমে যেতে পারে। এতে উন্নয়ন প্রকল্প ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটনের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। উত্তেজনা বাড়লে সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়ে।

ভারতের সাথে সুন্দর সম্পর্ক উন্নয়ন করতে পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের জন্য দুই দেশকেই একে অপরের স্বাধীনতা, স্বার্থ ও জনগণের অনুভূতিকে সম্মান করতে হবে।

যেকোনো সমস্যা যুদ্ধংদেহী বক্তব্য নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। নিয়মিত বৈঠক, যৌথ কমিশনে সীমান্ত আলোচনা সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে।নদী নিয়ে সমঝোতা ও যৌথ গবেষণা দুই দেশের মানুষের উপকার হবে।

শুল্ক কমানো, সীমান্ত বাণিজ্য সহজ করা,যৌথ শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানোএসব অর্থনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।শিক্ষা, সংস্কৃতির উন্নয়নে ছাত্র বিনিময়, সাহিত্য উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিকিৎসা ও পর্যটন সহযোগিতা, মানুষে মানুষে সম্পর্ক উন্নয়ন করে।গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য, ঘৃণা বা উসকানিমূলক প্রচারণা দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে। তাই তথ্য যাচাই ও শান্তিপূর্ণ ভাষা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেশী দেশ বদলানো যায় না, কিন্তু সম্পর্ক উন্নত করা যায়। শক্তিশালী রাষ্ট্র মানে শুধু কঠোর অবস্থান নয়; বরং নিজের স্বার্থ রক্ষা করে শান্তিপূর্ণ, সম্মানজনক ও কৌশলী সম্পর্ক বজায় রাখা। দুই দেশের জনগণের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য সহযোগিতা ও সংলাপই জরুরী।