বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

জ্বালানি সংকটে চাপে পোশাক খাত


প্রকাশ :

জ্বালানি সংকটের পর ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের তৈরি পোশাক খাত এখন চাপে পড়েছে। শিল্প মালিকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি রফতানি আয়ও হ্রাস পেতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম ও লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদেশি ক্রেতাদের ওপরও। ফলে অনেক বায়ার অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, নির্ধারিত কর্মঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের বেতন ব্যয় অপরিবর্তিত থাকায় কারখানাগুলো আর্থিক চাপে পড়ছে।

এ অবস্থায় শিল্প মালিকরা মনে করছেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের সমন্বয় জরুরি। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি, ব্যাংকিং খাতে ঋণ পরিশোধের সময়সূচি শিথিল এবং শিল্পবান্ধব নীতিগত সহায়তার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু শিল্পেই সীমাবদ্ধ নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়াচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো এখন জরুরি। ট্রেস কনসাল্টিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফুয়াদ এম. খালিদ হোসেনের মতে, বিলাসী পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ, কর জাল সম্প্রসারণ এবং রফতানি আয়ের অর্থ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনা ও তা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম আর না বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনমুখী শিল্পে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই খাতকে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।