শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

বাংলাদেশের অতিরিক্ত ডিজেল চাওয়ার আবেদন বিবেচনায় ভারতের সরকার


প্রকাশ :

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের যে অনুরোধ করা হয়েছে, তা বিবেচনা করছে ভারত সরকার। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ একই ধরনের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতের নিজস্ব প্রয়োজন এবং শোধনাগারের সক্ষমতা বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে অঞ্চলটিতে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে এ অনুরোধ করা হয়।

ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সোয়াল আরও জানান, ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় আকারে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি করে থাকে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত থেকে ডিজেল সরবরাহ হচ্ছে।

তিনি বলেন, নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে বাংলাদেশে ২০০৭ সাল থেকে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে সেই সরবরাহ এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে ডিজেল ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি সই হয় নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন–এর মধ্যে। সেই চুক্তির আওতায় বর্তমানে ডিজেল সরবরাহ চলছে।

এদিকে বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ–এর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই গণমাধ্যমকে জানায়, বাংলাদেশ অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে এবং বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরও দুটি বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার আসামিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া বা তাঁদের সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে কি না—এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি রণধীর জয়সোয়াল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার–এর দেওয়া বিবৃতির বাইরে নতুন কিছু বলার নেই।

এ ছাড়া বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স–এর প্রধানের ভারত সফর প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ডিজিএফআই প্রধান ভারতে এসেছিলেন এবং রাইসিনা ডায়ালগ–এর ফাঁকে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়ে থাকতে পারে।