ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ইস্যুতে সরকারি দল ও বিরোধীদলের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকার পক্ষ বলছে, সাংবিধানিক প্রথা অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার রীতি রয়েছে এবং সে অনুযায়ীই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন।
তবে বিরোধীদলীয় নেতারা এ বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাদের দাবি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার কোনো সাংবিধানিক অধিকার নেই।
বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বিএনপি কেন এ উদ্যোগ নিচ্ছে, তা তার কাছে স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে সরকারি দল বিএনপিকে আগে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করারও দাবি জানান তিনি।
এদিকে সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বাধ্য না করলে কোনো বিষয় আদালতে নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে চায়। অযথা সবকিছুর বিরোধিতা করা হবে না, আবার না বুঝে সমর্থনও দেওয়া হবে না।
দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর সংসদের অভাবে দেশের মানুষ ভুগেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একতরফা সরকার, গৃহপালিত বিরোধী দল এবং প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের কারণে জাতীয় সংসদ অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
তবে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পালাবদলের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে নতুন করে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। এবারের সংসদে নেতৃত্ব দিচ্ছে অভিজ্ঞ বিএনপি, আর প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র নেতৃত্বে গঠিত দল এনসিপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশা, নতুন এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদ আরও প্রাণবন্ত হবে এবং জনপ্রত্যাশা পূরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।