টিএফআই সেল ও জেআইসি বা আয়নাঘরে গুম-নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুই মামলায় কারাগারে থাকা ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে। মামলা দুটির ওপর গুরুত্বপূর্ণ শুনানিকে ঘিরে সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা দায়িত্ব নিয়েছেন। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও এলাকায় তৎপর আছেন।
আজ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেলে দুই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। হাজির ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ফেরতসংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি পলাতক শেখ হাসিনা, তারেক সিদ্দিকী ও কামালের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিয়োগের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে।
২০ নভেম্বর নির্ধারিত শুনানি স্থগিত হওয়ার পর আজকের তারিখ ধার্য হয়। তারও আগে ২৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের অন্য একটি প্যানেল শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ঠিক করেছিল।
২২ অক্টোবর টিএফআই সেলের নির্যাতন-গুমের দুই মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে প্রথমবার ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। সেদিন শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে ৮ অক্টোবর দুই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং ২২ অক্টোবর শুনানির তারিখ দেয়।
টিএফআই সেলের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে তারেক সিদ্দিকী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। ২২ অক্টোবর ১০ সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
অন্যদিকে আয়নাঘরে গুমের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এখানে শেখ হাসিনা ও তারেক সিদ্দিকীর নামও রয়েছে। বাকি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
কারাবন্দি ১৩ সেনা কর্মকর্তার তালিকায় আছেন— ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী।
আজকের শুনানিতে হাজিরা ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।