বিগত সরকারের শাসন আমলে ১৫ বছরে গড়ে প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। দুর্নীতিবাজ ও দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, এদের পদলোভী দুর্নীতিবাজ দুর্বৃত্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীর এই নিকৃষ্ট চক্র তাদের স্বীয় স্বার্থে দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও ভয়ংকর রকমের কারচুপি, জালিয়াতি, ব্যাংক ঋণের নামে ব্যাংক ডাকাতির মাধ্যমে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার করেছে। এদের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শুধু হাসিনা সরকারের আমলেই নয়, বিগত ৫৪ বছরে এদেশে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।
এক সরকারের আমলে রাজনৈতিক নেতা, সরকারি আমলা, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। দুর্নীতির মামলায় তদন্ত ও বিচার করে সাজা দেওয়া হয়। অনেকের মামলা তদন্তাধীন থাকে। এতে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে সাজাপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সাজা মওকুব বা বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। অনেক মামলার বিচার ঝুলে থাকে।
পরবর্তীতে এই সকল দুর্নীতিবাজ বিপুল শক্তি নিয়ে আবারো দুর্নীতিতে জড়িত হয়ে পড়ে। এটাই জাতির জন্য নির্মম পরিহাস। এই নিষ্ঠুর চক্র আবারো রক্তস্নাত বাংলার মানুষকে শাসন ও শোষণ করে। দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও ভয়াবহ কারচুপি ও জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়ে।
পাক ভারত উপমহাদেশের মানুষ সংগ্রাম করে, আন্দোলন করে, রক্ত দিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে বিতারিত করে। ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্র জন্ম নিল। মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণ হলো না। আবারো এক রক্তক্ষয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম নিল। আবারো নিকৃষ্ট চক্র বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা পেল। শুরু হলো জালিম অপশক্তির তৎপরতা।
বাংলার মানুষ রক্ত দেয়, নির্যাতন, নিপীড়ন, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়।
এই নিকৃষ্ট চক্র খোলস বদল করে আবারো বাংলার মানুষের উপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে। কেবলমাত্র ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করে এই নিকৃষ্ট চক্রকে বিদায় করা সম্ভব নয়। ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের অধীনে দরিদ্র, অভুক্ত, অশিক্ষিত, অসচেতন ভোটারেরা ভয়-ভীতি ও লোভে প্রভাবিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না।
বিকল্প ব্যবস্থা হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত করা।