রাজশাহীতে দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৬) হত্যা এবং বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসীকে (৪৪) হত্যাচেষ্টার মামলায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামির মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেওয়া নিয়ে। এই বিষয়েই আদালতে ব্যাখা দিয়েছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি সাদা পোশাকে একটি প্রাইভেটকারে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–৫ এ হাজির হন। প্রায় ১৫ মিনিট কাঁঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় তার পক্ষে আইনজীবী জমসেদ আলী আদালতে লিখিত ব্যাখা দাখিল করেন এবং কমিশনারের বিরুদ্ধে করা বিবিধ মামলায় অব্যাহতি চান। ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমান আবেদনটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য রাখেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আশরাফ মাসুম।
তিনি জানান, মামলার পরবর্তী তারিখ ১ ডিসেম্বর। ওই দিন কমিশনারের ব্যাখা নিয়ে আদালত আদেশ দিতে পারেন।
লিখিত ব্যাখায় আরএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন, লিমন মিয়াকে রামেক হাসপাতালে আটকের পর সেখানে মানুষের ভিড় ছিল। সেই সুযোগে লিমন ক্যামেরার সামনে কথা বলেন। তিনি আরও জানান, দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওই সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
১৩ নভেম্বর বিকেলে বিচারকের বাসায় ঢুকে তাওসিফকে হত্যা এবং বিচারকের স্ত্রীকে গুরুতর জখম করে লিমন মিয়া। পরে তাকে হাসপাতালে হেফাজতে নেওয়া হলে তিনি নিহতদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমে কথা বলেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আদালত বিষয়টি আমলে নেয় এবং ব্যাখা দিতে পুলিশ কমিশনারকে তলব করে।