রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

শেখ হাসিনা ও কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ আদালতের


প্রকাশ :

গত বছরের জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দেশের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের প্যানেল সোমবার (১৭ নভেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলায় হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগগুলো হলো: ১৪ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ; রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা; এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ।

প্রাথমিকভাবে মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন শেখ হাসিনা। পরে ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং ১২ মে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। ওইদিনই সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার পতিত হয়। শেখ হাসিনা তখন ভারতে পালিয়ে যান, যার ফলে তার নেতৃত্বাধীন প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক, বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি।

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার জানিয়েছেন, পলাতক আসামিরা সাজার বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে না। ট্রাইব্যুনাল আইনে বলা আছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হবে অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হতে হবে।