রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

রাজারহাটে সরকারি সড়ক দখল করে ভবন নির্মাণের পাঁয়তারা'র অভিযোগ


প্রকাশ :

রাজারহাটে সরকারি সড়ক অবরোধ করে বিকল্প রাস্তা ছাড়াই একটি স্কুল কাম ফ্লাড শেল্টার বহুতল ভবন নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে এমন অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। ইতিমধ্যেই ওই ভবন নির্মাণের কারণে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নষ্ট হচ্ছে বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় কিশোর ও যুবকরা।

অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যমান ভবন থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী সংকট ও বিদ্যালয়ের বেদখলকৃত জমি উদ্ধারের উদ্যোগ ছাড়াই নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে চলাচলের একমাত্র সরকারি সড়কটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


চলাচলের জন্য সরকারি সড়ক উদ্ধার ও মেরামতের দাবিতে পুটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সাবেক ছাত্র রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। সেই আবেদনের পর প্রায় তিন মাস পর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোছা. শামীমা খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করেন।

জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খালিশা নাখেন্দা গ্রামে অবস্থিত পুটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় বিদ্যালয়টির জন্য প্রায় ১০৩ শতক জমি নির্ধারিত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে নির্মিত ভবনে পাঠদান চলতে থাকে। বর্তমানে সেখানে নতুন একটি স্কুল কাম ফ্লাড শেল্টার বহুতল ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।

কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণের জন্য যে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি ১৯৪০, ১৯৬২ ও ১৯৯০ সালের গেজেটভুক্ত সরকারি সড়কের ওপর। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯১৪ সালের রেকর্ড অনুযায়ী বিদ্যালয়ের জমি ছিল ১০৩ শতক, কিন্তু নব্বইয়ের দশকে তা কমে মাত্র ৫৩ শতক রেকর্ড হয় বিদ্যালয়ের নামে। এর মধ্যে কিছু অংশ নাম-বেনামে ক্রয়-বিক্রয়ও হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিবাস চন্দ্র সরকারি সড়ক দখল করে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


স্থানীয়দের দাবি, সাবেক প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান ও বর্তমান সভাপতি নিবাস চন্দ্রের যোগসাজশে সরকারি সড়কের ওপর সয়েল টেস্ট করা হয়েছে। অথচ সড়কটি বর্তমানে সভাপতি নিবাস চন্দ্রের পরিবারের দখলে। ফলে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয়রা এখন বিকল্প সংকীর্ণ পথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। সেই দখল করা সরকারি সড়কটিকেই ভবন নির্মাণ প্রকল্পে সংযোগ সড়ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, আর প্রকৃত সরকারি সড়কটি বাদ দেওয়া হয়েছে জরিপে।

ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শামীমা খাতুন বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে তদন্ত করেছি, দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেব।”

রাজারহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শরীফ আহম্মদ বলেন, “রাজারহাট উপজেলায় বর্তমানে ভবনবিহীন কোনো বিদ্যালয় নেই। মনি ডাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ কাজ চলমান। পুটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। সরকারি সড়কের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের কোনো এখতিয়ার কারও নেই।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারি বিদ্যালয়ের জমি ক্রয়-বিক্রয় হওয়া অস্বাভাবিক ও বেআইনি বিষয়। এ বিষয়ে আমি অবগত নই, তবে প্রয়োজনীয় খোঁজ নেওয়া হবে।”