রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

জাপানের শ্রমবাজারে ১ কোটি জনশক্তির সুযোগ, প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ


প্রকাশ :

জাপানে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শ্রমিকের ঘাটতি তৈরি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই বিশাল সুযোগকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশটির শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার জাপানের নাগোয়া শহরে বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ—জাপানের জন্য দক্ষ মানবসম্পদের সম্ভাবনাময় উৎস’ শীর্ষক সেমিনার ও ম্যাচিং ইভেন্ট।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ঢাকায় প্রাপ্ত এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিজ অ্যান্ড স্কিল্ড ওয়ার্কার্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (জেআইটিসিও)-এর সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী স্বাগত বক্তব্যে বলেন, দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে দূতাবাস সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

সেমিনারে প্রায় ২৫০টি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ও জাপানি নিয়োগকারী সংস্থা অংশ নেয়। বক্তব্যে ড. ভূঁইয়া বলেন, “জাপানে আগামী দুই দশকে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হবে, আর বাংলাদেশে বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ। এই সম্ভাবনাই দুই দেশের সহযোগিতার বড় ক্ষেত্র তৈরি করছে।”

তিনি জানান, জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী তৈরি করতে দেশে ইতোমধ্যে ৩৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) নির্ধারণ করা হয়েছে; প্রয়োজনে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি ‘জাপান সেল’ গঠন করা হচ্ছে, যা শ্রমবাজার সম্পর্কিত সমন্বয় ও যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

ড. ভূঁইয়া আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত কর্মীরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ইতোমধ্যেই সুনাম অর্জন করেছে। জাপানি ভাষা, সংস্কৃতি ও কর্মনৈতিকতা বিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জেআইটিসিও’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শিগেও মাতসুতোমি জাপানের শ্রমবাজারের সম্ভাবনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন। শেষে বাংলাদেশি জনশক্তি প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান ও জাপানি নিয়োগকারী সংস্থার মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।