রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা: “আমার ছেলেডারে কেন মারল” বিলাপ বাবার


প্রকাশ :

গাজীপুরে নির্মমভাবে নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের পরিবারে বইছে শোকের মাতম। সন্তান হারানোর বেদনায় কাতর বাবা-মা বারবার বলছেন, “আমার ছেলেডারে কেন এভাবে মারল?”

শুক্রবার (৮ আগস্ট) ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে উঠানে ত্রিপল টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। আশপাশের মানুষজন ভিড় করে আছেন। সেই ভিড়ের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তুহিনের বাবা হাসান জামাল। তিনি বলেন, “পরশু আমার ছেলে ওষুধের জন্য এক হাজার টাকা পাঠাইছে। এখন কে আমার জন্য টাকা পাঠাবে? কী অপরাধ ছিল ওর?”

তুহিনের মা সাহাবিয়া খাতুন বলেন, “ও কল দিয়ে আমার দুই নাতির সঙ্গে কথা বলাইছে। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। আমার বাবারে কারা মারল, কেন মারল?”

গ্রামের বাড়িতে তুহিনের দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। বাড়ির সামনে বাঁশ কাটা হচ্ছিল, কাছেই খোঁড়া হয়েছে কবর। বৃষ্টির পানি জমে না—সে জন্য কবরের উপর ত্রিপল দেওয়া হয়। ভেতরে বাবা-মা, স্বজনরা শোকে বিমর্ষ।

তুহিন ছিলেন সাত ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। ২০০২ সালে এসএসসি পাস করে উচ্চমাধ্যমিকে পড়তে যান সিলেটের এম সাইফুর রহমান কলেজে। এরপর গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সেখানেই স্ত্রী মুক্তা বেগম ও দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন এবং তিন বছর ধরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এ স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছিলেন।

পত্রিকাটির সম্পাদক খায়রুল আলম বলেন, “পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। একজনকে আক্রমণের ভিডিও করায় তাকেই হত্যা করা হলো। আমরা এর ন্যায়বিচার চাই।”

গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, রাজনৈতিক চাঁদাবাজদের হাত রয়েছে এতে। তবে পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (অপরাধ উত্তর) মো. রবিউল ইসলাম জানান, বাদশা নামে এক যুবকের ওপর হামলার ভিডিও ধারণ করায় তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে।