গুলশানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায়ের ঘটনা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক সদস্য আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদ।
রোববার (৩ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাত উল্লাহর আদালতে স্বেচ্ছায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরের কাছ থেকে তিনি ও তার সহযোগীরা চাঁদার এই অর্থ আদায় করেন।
জবানবন্দিতে রিয়াদ জানান, আদায়কৃত ১০ লাখ টাকার মধ্যে তিনি নিজে পাঁচ লাখ টাকা রাখেন এবং বাকি পাঁচ লাখ টাকা অন্য সহযোগীদের মধ্যে ভাগ করে দেন। নিজের অংশের টাকা তিনি রাখেন বাড্ডার বৈঠাখালি এলাকার একটি সাততলা ভবনের ফ্ল্যাটে। সেখান থেকে খরচের পরও তার ওয়ার্ডরোব থেকে পুলিশ ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
রিয়াদ আদালতে স্বীকার করেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ পুরোপুরি শাম্মী আহমেদের বাসা থেকে নেওয়া চাঁদার টাকা।
তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা সিদ্দিক আবু জাফরকে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। পরে জাফর ১০ লাখ টাকা দিতে সম্মত হন।
রিয়াদ তার জবানবন্দিতে আরও বলেন, এই চাঁদাবাজিতে তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক ইব্রাহীম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব।
গত ২৬ জুলাই, বাদীর কাছ থেকে আরও ৪০ লাখ টাকা নেওয়ার জন্য তারা গুলশানের বাসায় গেলে পুলিশ পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে।
রিয়াদ আদালতকে জানান, এ পাঁচজন ছাড়াও আরও দুই-তিনজন এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। চাঁদাবাজির মূল নেতৃত্ব দেন তিনি ও জানে আলম অপু। গুলশানের আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও তারা অর্থ আদায় করেছেন বলে স্বীকার করেন রিয়াদ।