জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, “উচ্চকক্ষের প্রয়োজন তখনই, যদি তা নিচু কক্ষের অনুলিপি না হয়। একই ভিত্তিতে গঠিত হলে উচ্চকক্ষের আর প্রয়োজন নেই।”
শনিবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বসুন্ধরায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংলাপের শিরোনাম ছিল—‘একটি গণতান্ত্রিক ও প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতির সন্ধানে’।
বদিউল আলম বলেন, “সংবিধান সংস্কার কমিশন ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা প্রস্তাব করেছি, শুধুমাত্র উচ্চকক্ষে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। এটিই হতে পারে নির্বাচনী সংস্কারের প্রথম ধাপ, যা ধীরে ধীরে আরও উন্নত ও কার্যকর করা যাবে।”
সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স এবং প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পুট্যাব)।
ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মামুনুল হক, এবং ব্যারিস্টার ফুয়াদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী।
সঞ্চালনা করেন ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস স্কুলের ডিন ড. একেএম ওয়াহিদুল করিম। তিনি তার প্রস্তাবে বলেন, ৩০০ আসনে সরাসরি ভোটের পাশাপাশি প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে অতিরিক্ত আসন বরাদ্দে ‘উইনার্স প্রিমিয়াম’ যুক্ত করা যেতে পারে। এতে সরাসরি জবাবদিহিতা ও অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব—দুটোই বজায় থাকবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “গত ১৫ বছরে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ভেঙে পড়েছে। ভিন্নমতের জায়গা সংকুচিত হয়েছে। সংস্কার কার্যকর করতে হলে প্রথমেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন জরুরি।”
ববি হাজ্জাজ বলেন, “একাডেমিক তত্ত্ব আর বাস্তব রাজনীতির মাঝে বড় ব্যবধান আছে। আমাদের উচিত বিদেশি মডেল নয়, নিজস্ব বাস্তবতা থেকে পথ খোঁজা। আইভরি টাওয়ার সিনড্রোম থেকে সতর্ক থাকতে হবে।”
ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, “নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, সংকটময় ২৬টি দেশের মধ্যে ১৬টিই গড়ে ১০ মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে স্থিতিশীলতা ফিরে পেয়েছে।”
ডা. তাসনিম জারা বলেন, “২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভোট-আসনের বড় বৈষম্য রয়েছে। যুব ও নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে পদ্ধতিগত সংস্কার দরকার। ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ অর্জনের জন্য তরুণদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”
মামুনুল হক মন্তব্য করেন, “বর্তমান নির্বাচনব্যবস্থা মূলত দুই দলের খেলা। জনগণ কেবল দর্শক। প্রকৃত আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বই এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে পারে।”
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ঘাটতি থাকলে উচ্চকক্ষ রাজনৈতিক পার্কিং স্পটে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।”