ইসলামে কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট ছয় প্রকারের হালাল গবাদি পশু নির্ধারিত—উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। এসব পশু ছাড়া অন্য কোনো পশু, যেমন হরিণ বা ঘোড়া, খাওয়া হালাল হলেও কোরবানি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে ইসলামী শরিয়তের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। হানাফি মাজহাবের প্রবর্তক ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ঘোড়ার মাংস খাওয়াকে মাকরুহ বা অপছন্দনীয় বলেছেন। তার যুক্তি—ঘোড়া মূলত বাহন ও যুদ্ধের জন্য উপযোগী, তাই তা ব্যাপকভাবে জবাই করা উচিত নয়।
তবে হানাফি মাজহাবের অন্য দুই ইমাম—ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.), এবং অন্যান্য মাজহাবের অধিকাংশ আলেম ঘোড়ার মাংস খাওয়াকে হালাল বলেছেন। তাদের মতের পক্ষে সহিহ হাদিসও রয়েছে।
জাবের (রা.) ও আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে সাহাবিরা ঘোড়া জবাই করে খেয়েছিলেন এবং তা নিষিদ্ধ করেননি (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।
সুতরাং, ঘোড়ার মাংস খাওয়া ইসলামী দৃষ্টিতে বৈধ হলেও, কোরবানির জন্য তা গ্রহণযোগ্য নয়। কোরবানি শুধুমাত্র নির্ধারিত ছয় প্রকার পশুতেই সীমাবদ্ধ।