মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের পূর্বশর্ত- ধর্ম উপদেষ্টা


প্রকাশ : (৬ মাস আগে)
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের পূর্বশর্ত- ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সামাজিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করে সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের ওপর। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ ছাড়া দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সোমবার (২৯শে ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত রংপুর জেলা কর্মশালা, ২০২৫ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এই কর্মশালার আয়োজন করে।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, এদেশে নানা ধর্মের মানুষের বসবাস। সবাইকে নিয়ে আমাদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। সামাজিক অস্থিরতা কিংবা অসন্তোষ থাকলে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি সকলকে উদার মন ও প্রসারিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার অনুরোধ জানান।

ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করাকে জঘন্য কাজ উল্লেখ করে ড. খালিদ বলেন, ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ বা ব্যঙ্গ করার অসুস্থ মানসিকতা ও হীন প্রকৃতির মানুষের কাজ। ধর্ম অবমাননা যেমন আইনের চোখে অপরাধ, তেমনি এর অজুহাতে কাউকে বা কোনো সম্প্রদায়কে বেআইনিভাবে শাস্তি দেওয়া আরো বড়ো অপরাধ।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মানুষ আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা মরদেহের অবমাননা বর্বরতার শামিল। কেউ অপরাধ করলে তার জন্য আইন-আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প যেন সুকুমার বৃত্তিকে বিনষ্ট না করে, সেজন্য তিনি সকলকে মানবিক হওয়ার এবং দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। প্রত্যেককে নিজের ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়নের আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ধর্মের প্রকৃত বাণীগুলো অনুধাবন করে জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারলে জীবন আলোকিত হবে।

রংপুর জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন চন্দ্র মজুমদার, ধর্ম উপদেষ্টার একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) ছাদেক আহমদ, প্রকল্প পরিচালক নিত্য প্রকাশ বিশ্বাস, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, রংপুরের পুলিশ সুপার মোঃ মারুফাত হুসাইন ও ট্রাস্টি পরিতোষ চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের অধীনে সারাদেশে ৭,৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রতিবছর ২ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। রংপুর জেলায় এই প্রকল্পের ১৪৯টি কেন্দ্র রয়েছে। এই প্রকল্প শিক্ষা প্রসারের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

বিজ্ঞাপন