ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত নয়টি সংসদ নির্বাচনেই জাতীয় পার্টি অংশ নিয়েছে, কিন্তু কোনো নির্বাচনের দুই মাস আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটা নাজুক ছিল বলে তার মনে পড়ে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার নির্বাচনে সবার জন্য সমান লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে।
বুধবার জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এ সময় তার নেতৃত্বে দলের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দলীয়ভাবে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। একই সঙ্গে আজ থেকেই জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব একটি অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নির্বাচন না হলে দেশের চলমান সংকট কাটবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল একাত্তরের চেতনাকে বিকৃত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘আমরা মনে করি ২৪ মানে একাত্তরের পরাজয় নয়, এটি একটি ধারাবাহিকতা। যারা একাত্তরের চেতনাকে ধারণ করবে, তারা ২৪-কেও লালন করবে।’ তিনি আরও বলেন, এই সমন্বিত রাজনৈতিক চর্চা বর্তমানে অনুপস্থিত, যা থেকে বেরিয়ে আসতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী আরও অভিযোগ করেন, গত এক বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। সর্বত্র মব সন্ত্রাস, মিথ্যা ও সাজানো মামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। জামিন পাওয়ার পরও জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনাকে তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়ার বারবার জামিন হওয়া সত্ত্বেও নতুন মামলায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি এসব ভিত্তিহীন মামলা থেকে সাধারণ মানুষের অব্যাহতির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, মো. আতিকুর রহমান আতিক, শেরীফা কাদের, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন, এইচ এম শাহরিয়ার আসিফ, আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, এস এম ইয়াসির, ইকবাল হোসেন তাপস, আলহাজ্ব আবু তাহের, আজমল হোসেন লেবু, নুরুন্নাহার বেগমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)