বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচেই বিগ ব্যাশ লিগের প্লেঅফে প্রথম দল হিসেবে জায়গা নিশ্চিত করেছে হোবার্ট হারিকেন্স। সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে রোববারের ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় এক পয়েন্ট পায় হোবার্ট। তাতেই শেষ চারে ওঠা নিশ্চিত হয় রিশাদ হোসেনের দলের।
সিডনির মাঠে নির্ধারিত সময়েই শুরু হয়েছিল ম্যাচটি। টস জিতে ব্যাটিং নেয় সিডনি সিক্সার্স এবং ৫ ওভার খেলার পর হঠাৎ বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর আম্পায়াররা ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।
এই এক পয়েন্টে ৯ ম্যাচ শেষে হোবার্ট হারিকেন্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩ পয়েন্ট। ফলে টেবিলের পাঁচ থেকে আট নম্বরে থাকা কোনো দলের পক্ষেই তাদের টপকে যাওয়া সম্ভব নয়। পাঁচ নম্বরে থাকা ব্রিসবেন হিট বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও সর্বোচ্চ ১২ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারে। একই পরিস্থিতি অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগাদসেরও। বরং পরের ম্যাচে ব্রিসবেন হিটকে হারাতে পারলে শীর্ষে শেষ করার সুযোগও থাকছে হোবার্টের সামনে।
হোবার্টের এই সাফল্যের পেছনে বড় অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। চলতি আসরে তিনি দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এবং পুরো টুর্নামেন্টে স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বোলার। ২০.৮১ গড়ে ও ৭.৬৩ ইকোনমিতে তার ঝুলিতে ১১ উইকেট। প্রতিটি ম্যাচেই একাদশে থাকা রিশাদের ওপর দলের আস্থার প্রমাণ।
বিগ ব্যাশে অভিষেকের আগেই হোবার্ট হারিকেন্সে জায়গা করে নেওয়ার পেছনে ছিল অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের সুপারিশ। দলের হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার স্যালিয়ান ব্রিগস জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রিশাদের আগ্রাসী বোলিং ও উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা পন্টিংকে মুগ্ধ করেছিল।
পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় সতীর্থদের প্রশংসাও কুড়াচ্ছেন রিশাদ। গত ২৭ ডিসেম্বর টিম ডেভিড বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার খেলতে এসে রিশাদের আত্মবিশ্বাস ও নিয়ন্ত্রণ চোখে পড়ার মতো। ছোট সোজা বাউন্ডারিতেও তার হাতে নিশ্চিন্তে বল তুলে দেওয়া যায়।
এর আগে বিগ ব্যাশে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে উইকেটশিকারের দিক থেকে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন রিশাদ। ২০১৩–১৪ ও ২০১৪–১৫ মৌসুমে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগাদসের হয়ে সাকিব ৬ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট।