২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ধ্বংস হওয়া পাকিস্তানের বহওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের (জেইএম) প্রধান প্রশিক্ষণ ও প্রচারকেন্দ্রটি ফের নির্মাণ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ মাসের মধ্যেই ঘাঁটির পুনর্নির্মাণের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে।
সূত্রের দাবি, পুনর্নির্মাণে পাকিস্তান সরকার ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ কোটি টাকা শুধু ওই ঘাঁটির কেন্দ্রীয় হল নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
লাহোর থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বহওয়ালপুরকে জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শহরটির ১৮ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ‘জামা-এ-মসজিদ শুভান আল্লাহ’ ক্যাম্পাসে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। জইশের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারও বহওয়ালপুরের বাসিন্দা এবং ওই ক্যাম্পাসে অবস্থান করতেন বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে হামলার পর মে মাসের শুরুতে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি স্থানে ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ চালায় ভারত। এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বহওয়ালপুরের জইশ ঘাঁটি। হামলার পর স্যাটেলাইট ছবিতে ক্যাম্পাসটির বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়। ভবনের দেয়াল ও মেঝেতে বিস্ফোরণের চিহ্ন এবং কয়েকটি গম্বুজ ও ছাদের অংশ ধসে পড়ার ছবিও প্রকাশিত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে পাকিস্তান সরকার জইশ-ই-মহম্মদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। বহওয়ালপুরের ওই ক্যাম্পাসের কাছেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি ক্যান্টনমেন্ট রয়েছে। জইশের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের যোগাযোগ এবং বহওয়ালপুরে গোপন পরমাণু স্থাপনা থাকার বিষয়েও বিভিন্ন সূত্রে দাবি রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫
১ সপ্তাহ আগে