দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, “সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ উৎসব যেন সারা দেশে নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কোনো পূজামণ্ডপে যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারাও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।”
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে লালমনিরহাট কালেক্টরেট মাঠে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে সদর উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে জিআর চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “যেসব হতদরিদ্র মানুষের পক্ষে পূজার আয়োজন করা কঠিন, তাঁদের আর্থিক সহায়তা, কাপড় ও চাল দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা সুন্দরভাবে পূজার আয়োজন করতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল ধরে এ দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। এখানে আমাদের কোনো ভেদাভেদ নেই। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবেন—এটাই বর্তমান সরকারের বিশ্বাস। সবার নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের, আর সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “আমি আশা করি, এবারের দুর্গোৎসব অতীতের সব উৎসবকে ছাড়িয়ে আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহা. রাশেদুল হক প্রধান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার ১৬২টি পূজামণ্ডপে ৬০০ কেজি করে মোট ৯৭ টন ২০০ কেজি জিআর চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া লালমনিরহাট পৌরসভার ২৫টি পূজামণ্ডপে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৭০০ জন নারীকে শাড়ি ও ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে মমিনুল হক, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন কমিটি লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি হীরালাল রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীতা দাসসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আশার ব্যয় ১১৮ কোটি টাকা
১৩ ঘন্টা আগে