আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর। এ উন্নয়ন কার্যক্রমে পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা যাচাই করতে অংশীজনদের মতামত নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সভায় নির্মাণকাজের সময় পণ্য পরিবহন সচল রাখা, ধুলাবালি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয়দের কর্মসংস্থান এবং ভূমি অধিগ্রহণে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি উঠে আসে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বুড়িমারী স্থলবন্দর ভবনের সভাকক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তর, লালমনিরহাট জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ACCESS প্রকল্পের আওতায় পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ACCESS প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক ও উপসচিব মো. সিদ্দিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, লালমনিরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিজন কুমার রায়। এ সময় পাটগ্রামের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিশাল দাস এবং বুড়িমারী স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, ভূমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘অ্যাকসেলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (অ্যাকসেস), বাংলাদেশ ফেজ-১’ প্রকল্পের আওতায় বুড়িমারী, বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দরে আধুনিক টার্মিনাল, গুদাম, ট্রাক পার্কিং, প্রশাসনিক ভবন ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অবকাঠামো নির্মিত হলে যানজট কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন আরও নিরাপদ ও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় প্রকল্পের খসড়া পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন এবং পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশীজনেরা প্রকল্পের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নির্মাণকাজ চলাকালে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা, বিকল্প ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত ট্রাক পার্কিং ও ওজন স্কেলের সুবিধা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজে ধুলাবালি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো, স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। নারী প্রতিনিধিরা নারী, শিশু ও প্রবীণদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার, যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ধুলাবালি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত এলাকায় বিদেশি যানবাহন চলাচলে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে বিজন কুমার রায় বলেন, উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অংশীজনদের যৌক্তিক মতামত চূড়ান্ত পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন এবং পরিবেশগত ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তিতে কার্যকর অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে বুড়িমারী স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আশার ব্যয় ১১৮ কোটি টাকা
২১ মিনিট আগে