শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির আহ্বান


প্রকাশ : (৭ ঘন্টা আগে)
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির আহ্বান

মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইনপ্রণেতা, মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা।

তারা বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত ছাই, গরম পানি ও বিভিন্ন ধরনের দূষণ নদী ও জলাশয়ের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এতে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রতিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই মৎস্য অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষায় সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মৎস্যসম্পদের সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ প্রচারাভিযানের আওতায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন।

সভায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য ইকবাল ফারুক বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই ও গরম পানি নদীতে গিয়ে মাছের স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত করছে। একই সঙ্গে ভারী ধাতু মাছের শরীরে জমে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই পর্যায়ক্রমে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে এসব স্থানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মৎস্যসম্পদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ ও গরম পানি নদীর পানিতে দূষণ ও অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করে মাছের ক্ষতি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন, সৌর সেচ ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে খাসজমি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও কাজ চলছে। মৎস্য খাতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণদের পরিবেশ সুরক্ষায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, আলোচনা সভার মধ্যেই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। সরকার, বিশেষজ্ঞ, মৎস্যজীবী, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করে মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হচ্ছে। বর্তমান সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রয়োজনে উন্নত দেশগুলোর আদলে সোলার এনার্জি কর্পোরেশন গঠনের কথাও বলেন তিনি।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, পানির তাপমাত্রা, দূষণ, দ্রবীভূত অক্সিজেন ও পিএইচের সামান্য পরিবর্তনও মাছের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য মাছের প্রজনন ও খাদ্যশৃঙ্খলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় আগে দেওয়া সুপারিশগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ, জলজ প্রতিবেশ ও উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, রিভারাইন পিপল, কোস্ট ফাউন্ডেশন, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসহ ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
(প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

বিজ্ঞাপন