দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনের মৃত্যু সরাসরি হামজনিত বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আর বাকি ৫ শিশু মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই তথ্য ১২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিশ্চিতভাবে হামে মারা যাওয়া দুই শিশুই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন রাজশাহী বিভাগের।
একই সময়ে দেশে নতুন করে ৮২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬ জনই ঢাকা বিভাগের, যা মোট সংক্রমণের বড় অংশ। রাজশাহী বিভাগে ৪ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। অন্য কোনো বিভাগে নতুন সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১,৩৭১ জনের মধ্যে। এদের মধ্যে ৬১৫ জনই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭২৯ শিশু, যার মধ্যে ২৭৪ জন ঢাকা বিভাগের। তুলনামূলকভাবে রংপুরে ১১ জন এবং ময়মনসিংহে ১৭ জন ভর্তি হয়েছে।
এদিকে চিকিৎসা শেষে গত এক দিনে হাসপাতাল ছাড়পত্র পেয়েছে ৭১৩ জন শিশু। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩০৫ জন, রাজশাহীতে ১২ জন এবং চট্টগ্রাম ও খুলনায় ১০৩ জন করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৫৬ শিশু।
এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ১৭ হাজার ২৪ জন। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৯৫৪ জনকে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে ২ হাজার ৭২১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ৮ হাজার ৩৬৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।