আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম টানা চাপে রয়েছে এবং প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মূলত শক্তিশালী মার্কিন ডলারের প্রভাবে এ পতন দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ২২ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭১৮.৯৮ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে এটি ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৭৪২ ডলারে লেনদেন হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের আচরণে পরিবর্তন এসেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কমে গেছে। এতে ডলার ও তেলের দাম বাড়ছে, যা স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশাও স্বর্ণের দর কমার একটি বড় কারণ।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। রুপার দাম ২.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪.২৩ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৪.৯৫ ডলার। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৩৫.৭৭ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এখনও উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। বর্তমানে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।