সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook ব্যবহার দিন দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা, ব্যক্তিগত তথ্য ও মানসিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে বলে দাবি করেছে টেলি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিক্যাব)। ভুয়া প্রোফাইল, পরিচয় চুরি, সাইবার বুলিং, নারী ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা, প্রতারণামূলক লিংক এবং এআই-নির্ভর ডিপফেইক কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
এই প্রেক্ষাপটে শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে “ফেসবুককে নিরাপদ করতে সরকারের করণীয়” শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করে টিক্যাব। সংগঠনটির মতে, ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দুর্বল মনিটরিং এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সীমিত নজরদারির কারণে ব্যবহারকারীরা সহজেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি ফিশিং, ম্যালওয়্যার লিংক ও নকল অফারের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনাও বাড়ছে।
আলোচনা সভা থেকে টিক্যাব সরকারের কাছে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো—
প্রথমত, গণমাধ্যমের লোগো ও ফটোকার্ড নকল করে তৈরি ক্লোন পেজ ও ভুয়া আইডি দ্রুত বন্ধ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
দ্বিতীয়ত, দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর হার বেশি হওয়ায় সাইবার অপরাধও বেশি হলেও অধিকাংশ ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা নেন না। অভিযোগ দাখিলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ভুক্তভোগীদের আস্থা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
তৃতীয়ত, ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানো এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
চতুর্থত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে নিরাপদ ফেসবুক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ এবং গণসচেতনতা বাড়াতে প্রচারাভিযান চালানোর আহ্বান জানানো হয়।
পঞ্চমত, সাইবার বুলিং, অশ্লীল ও অসামাজিক কনটেন্ট এবং ই-কমার্স প্রতারণা রোধে জাতীয় হটলাইন চালু ও বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনসহ জেলা ও থানা পর্যায়ে প্রশিক্ষিত টিম গড়ে তোলার দাবি করা হয়।
টিক্যাব সভাপতি মুর্শিদুল হক (বিদ্যুৎ)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।