বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

হাতীবান্ধায় বিয়ের দাবিতে ৫ দিন ধরে নারীর অনশন


প্রকাশ :

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় বিয়ের দাবিতে এক নারী টানা পাঁচ দিন ধরে জামায়াত নেতা ও কলেজ শিক্ষক ফেরদৌস হোসেনের বাড়িতে অনশন করছেন।

রোববার (০৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাজীর বাড়িতে গিয়ে ওই নারী ঘরের দরজা বন্ধ করে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন।

এর আগে পাঁচ দিন পূর্বে ওই নারী ফেরদৌস হোসেনের বাড়িতে ওঠেন। বিষয়টি জানার পর ফেরদৌস হোসেন বাড়ি থেকে সরে পড়েন। ফেরদৌস হোসেন ফকিরপাড়ায় ইউনিয়ন পরিষদের কাজী, জামায়াত নেতা এবং হাতীবান্ধা ভবানীপুর ছেফাতিয়া মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ।

জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে ফেরদৌস হোসেন ওই নারী সাবিনা ইয়াসমিন নূপুরকে নিজ এলাকার সাফিউল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকে ফেরদৌস হোসেন ও নূপুরের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানার পর সাফিউল ইসলাম তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর ওই নারী ফেরদৌস হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ রয়েছে, ফেরদৌস হোসেন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তাকে উপজেলা সদরে নিয়ে গিয়ে রেখে নিজে পালিয়ে যান। নিরুপায় হয়ে সাবিনা ইয়াসমিন নূপুর ফেরদৌস হোসেনের বড়খাতা মিলন বাজারের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে পাঁচ দিন ধরে অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, “ফেরদৌস হোসেন আমাকে রংপুর থেকে এনে সাফিউলের সঙ্গে বিয়ে দেন। পরে তিনি বিভিন্নভাবে আমাকে প্রস্তাব দেন। বিষয়টি আমার স্বামী জানতে পেরে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর আমি ফেরদৌসের বাড়িতে যাই। তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে কয়েকবার সম্পর্ক করেন। এখন আমি অসহায়, আমার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই।”

ফেরদৌস হোসেনের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামীকে ফাঁসানোর জন্য ওই নারী আমাদের বাড়িতে উঠেছে। আমার স্বামী নির্দোষ।” এ ঘটনায় ফেরদৌস হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তাকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলা হয়েছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, “আমি দুদিন ধরে ছুটিতে আছি। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখছেন।”