বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

লালমনিরহাটে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল ও লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশ :

লালমনিরহাট সদর উপজেলায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার   ও স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে শহরের ক্যান্টিন মোড়ে ‘গল্প কথা’ ক্যাফেতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গোবিন্দ চন্দ্র সরকার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২৬ মার্চ বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনিতা দাস কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তার মালিকানাধীন জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন, স্থানীয় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শুকুরউদ্দীনসহ প্রায় ৫০-৬০ জন উপস্থিত ছিলেন।

তার অভিযোগ, কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ‘মব’ সৃষ্টি করে বসতবাড়ির সাইনবোর্ড ও স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। তাকে ও তার সন্তানদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি নির্মাণাধীন মার্কেটের প্রায় ১০ হাজার ইট, ১০০ বস্তা সিমেন্ট এবং আনুমানিক ২ লাখ টাকার রড লুটপাট করা হয়েছে।

গোবিন্দ চন্দ্র সরকার বলেন, জমিটি তার পৈতৃক সম্পত্তি এবং কোনো খাস জমি নয়। ১৯৪৩ সালে তার পিতা জমিটি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে আংশিক অধিগ্রহণের পর অবশিষ্ট জমি ১৯৬২ সালে তার পিতার নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। বর্তমানে ওই জমিতে তিনি বৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের কাজ করছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের আইনি নোটিশ বা পুলিশি উপস্থিতি ছাড়াই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যা বেআইনি। এ সময় তাকে টেনে-হিঁচড়ে ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শাস্তি এবং দখলকৃত সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানায়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনিতা দাস বলেন, বিআরএস খতিয়ানে তার নাম না থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে বিআরএস খতিয়ানে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় জমির মালিকানা প্রমাণ করতে পারলে জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

উচ্ছেদ নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাতের আঁধারে সাইনবোর্ড ও বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ায় পূর্বে কোনো নোটিশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ইট, সিমেন্ট লুটপাটের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা তার সামনে ঘটেনি।