রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদ উদযাপন করেছেন ১২শ বন্দি। তাদের কেউ সাজা ভোগ করছেন বছরের পর বছর ধরে। কারও ফাঁসির রায় হয়েছে,অনেকে আটক বিচারাধীন মামলায় বন্দী। ঈদে প্রিয়জনদের কাছ থেকে তারা কারাবন্দী। গত শনিবার ঈদের দিন তারা নামাজ আদায় করে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। বিশেষ খাবার বিতরণ করা হয়, দেখা করতে আসেন অনেক বন্দীর পরিবারের সদস্যরা।
রংপুর কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বন্দিদের অন্যরকম ঈদ উদযাপনের সুযোগ করে দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। দেখতে আসা বন্দিদের স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ, কোমলপানীয় ও উন্নত খাবারের ব্যবস্থা ছিল। ঈদের নামাজ আদায়, কুশল বিনিময়সহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করেছেন কারাবন্দিরা। সকাল সাড়ে ৮টায় বন্দিদের নিয়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় কারা অভ্যন্তরে। সে ঈদের জামাতে কারা কর্মকর্তারা নামাজে অংশ নেন।নামাজ আদায় শেষে বন্দিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও মতবিনিময় করেছেন। অনেক বন্দিকে নতুন পোশাক পরে ঈদের জামাতে অংশ নিতে দেখা গেছে। ভোর থেকেই বন্দিদের ঈদের পোশাক পরে কারা মাঠে সমবেত হতে সুযোগ দেওয়া হয়।সেখানে রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে।
রংপুর কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার এ.এস.এম কামরুল হুদা বলেন, ঈদ উপলক্ষে কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুযায়ী উন্নতমানের খাবার দেওয়া হয় বন্দিদের। সকালে পায়েশ আর মুড়ি দিয়ে নাস্তা দেওয়া হয়। দুপুরে পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরু আর খাসির মাংস, মিষ্টি, সালাদ আর কোমল পানীয়র সঙ্গে পান-সুপারি দেওয়া হয়। রাতে সাদা ভাত, রুই মাছ এবং আলুদমের আয়োজন করা হয়। ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের স্বজনদের জন্য ছিল নানা আয়োজন। কারাগারে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফুল দিয়ে বরণের আয়োজন ছিল। ঈদ উপলক্ষে কারা কর্তৃপক্ষের এসব আয়োজনে খুশি বন্দি ও তাদের স্বজনরা।
কারাগারে আটক বন্দির স্বজন মোফাজ্জল বলেন, আমার ভাতিজা দেড় বছর ধরে কারাগারে। ঈদ উপলক্ষে আমরা দেখা করতে এসেছি। এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপট দেখলাম। এর আগেও অনেকবার এসেছি। এবার আমাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হয়েছে। ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে।প্রত্যেককে সুপানীয় দেওয়া হয়েছে। বসার ব্যবস্থা ছিল।কারাগার কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানালেন অনেকে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজনৈতিক বন্দি অর্থাৎ বিভিন্ন মামলার আসামি দুই শতাধিক। তারা আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উযাপন করেছেন। তবে রাজনৈতিক বন্দিদের স্বজনদের অনেকে দেখা করতে এলেও এব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি কতৃপক্ষ।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের স্বজনরা তাদের বাড়িতে তৈরি করা পছন্দের খাবার দিতে পারবেন বন্দিদের। এ ছাড়া দেখাও করতে পারবেন। মোবাইল ফোনে ৫ মিনিট অতিরিক্ত কথা বলার সুযোগও থাকছে বোনাস হিসেবে।