আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা কতদূর এগুলো?’ শীর্ষক পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় শহরের হাসপাতাল রোডে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে অবস্থিত ‘কাপা ব্রিদার ফাস্ট ফুড অ্যান্ড বাংলা কুইজিন’ রেস্তোরাঁয় সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ও সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের অন্যতম সংগঠক দীপক কুমার রায়ের সভাপতিত্বে এবং গবেষণা কর্মী আলমগীর সুজনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলী রায়হান সরকার।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন কাকিনা উত্তরবাংলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফৌজিয়া দিবা এবং লালমনিরহাটের নারী উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী ন্যান্সি খন্দকার।
আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান বাস্তবতায় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সংকট, চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর অর্ধেক হওয়া সত্ত্বেও নারী কেন এখনও অধিকারবঞ্চিত ও নিপীড়নের শিকার—সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। একই সঙ্গে সমাজে নারীর মর্যাদা ও অবস্থানকে কীভাবে আরও সম্মানজনকভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়েও মতামত তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, ধর্ষণ ও নিপীড়নের সংস্কৃতি কেন বারবার সমাজে ফিরে আসে, তার কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। নারীর জীবন ও অস্তিত্বকে যে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বিপন্ন করে, তা চিহ্নিত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ধর্ষণ-সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
আলোচনায় বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্র কেন এখনও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ইয়াসমিন থেকে তনুসহ বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে তারা বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও জবাবদিহিমূলক হতে হবে।
তারা আরও বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামো, সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকার আইনসহ সামাজিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও সমালোচনামূলক আলোচনা জরুরি। সমাজে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার সমান মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।