বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

মাদকবিরোধী উদ্যোগে আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু


প্রকাশ :

মাদক ব্যবহার প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাব্সটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার। বিকাল ৩টায় রাজধানীর শ্যামলীর ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, তরুণ নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. বাহাউদ্দীন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমান, ইউএনওডিসির ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর (এইচআইভি/এইডস) আবু তাহের, ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) স্পেশাল রিপোর্টার জাহাঙ্গীর আলম এবং আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেল্থ এন্ড ওয়েলবিয়িংয়ের কোঅর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা। অনলাইনে যুক্ত ছিলেন আইস্যাপের ন্যাশনাল চ্যাপ্টারের কোর্ডিনেটর মিস ওলহা মাইশাকিভস্কা।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক এবং আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মেম্বার সেক্রেটারি ইকবাল মাসুদ বলেন, “মাদক ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি মাদকবিরোধী কার্যক্রমের সফলতার চাবিকাঠি।”

তিনি আরও জানান, ২০১৫ সালে ব্যাংককে আইস্যাপ-এর সঙ্গে প্রথম যোগাযোগের মাধ্যমে সহযোগিতার সূচনা হয়। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ওয়েবিনারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দেশের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের আইস্যাপ চ্যাপ্টারের আয়োজক হিসেবে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনকে দায়িত্ব দেওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মূল লক্ষ্য হলো প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম প্রচার, পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে গবেষক, চিকিৎসক, নীতিনির্ধারক এবং কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং মাদক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ও মানবিক উদ্যোগ শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে চ্যাপ্টারের কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় এবং লোগো উন্মোচন করা হয়। অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দেশের মাদক প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে পেশাগত মান উন্নয়ন এবং খাতভিত্তিক সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক হবে।

সর্বশেষে অনুষ্ঠানটি আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সফল কার্যক্রম কামনা এবং দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা নিয়ে সমাপ্ত হয়।