লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর পৃথক পাঁচটি বিশেষ অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য, মদ ও বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের মোট সিজার মূল্য ৪ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ টাকা।
বিজিবি জানায়, বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তের স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৪ মার্চ রাত ৮টা ৪০ মিনিটে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালাটারী এলাকায় প্রথম অভিযান চালানো হয়। একই রাতে রাত ৯টা ২০ মিনিটে লালমনিরহাট সদর উপজেলার চরফলিমারী এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালিত হয়।
পরদিন ৫ মার্চ ভোর ৩টা ২০ মিনিটে নাগেশ্বরী উপজেলার সরকারটারী এবং সকাল ৭টা ১০ মিনিটে হাতিবান্ধার উত্তর ঝাউরানী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একই দিন সকাল ৭টায় কর্নপুর এলাকাতেও পৃথক টহল অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন কয়েকজন চোরাকারবারীকে দেখে টহলদল ধাওয়া দিলে তারা বহনকৃত মালামাল ফেলে দ্রুত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয়— ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ১৯৯ বোতল (মূল্য ৭৯,৬০০ টাকা), ফেয়ারডিল সিরাপ ৫৬ বোতল (মূল্য ২২,৪০০ টাকা), হ্যাপিগোল্ড মদ ১৯ বোতল (মূল্য ২২,৮০০ টাকা), গাঁজা ৫ কেজি (মূল্য ১৭,৫০০ টাকা), বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী (মূল্য ২,৮৩,৬০০ টাকা), সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের মোট মূল্য ৪,২৫,৯০০ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি।
ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষায় গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও তাৎক্ষণিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, জব্দকৃত মালামাল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িত চোরাচালান চক্রকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।